স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় সংসদে কুমিল্লা বিমানবন্দর পুনরায় চালুর দাবি উত্থাপন করেছেন কুমিল্লা-৬ (সদর, সদর দক্ষিণ ও মহানগর) আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী।
সোমবার ৮ জুন বিকেলে সংসদে নোটিশ আকারে উত্থাপিত এক প্রশ্নে তিনি এ দাবি জানান। এ সময় তিনি কুমিল্লা বিমানবন্দরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং আঞ্চলিক উন্নয়নে এর ভূমিকার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জনগণের সম্পত্তির ওপর কুমিল্লা বিমানবন্দর স্থাপিত হয়। দেশভাগের পরও বিমানবন্দরটি চালু ছিল। তবে বিমানবন্দর নির্মাণে ব্যবহৃত জমির মালিকরা কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি। স্বাধীনতার পর বিমানবন্দরটি বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার বিমানবন্দরের সম্পত্তির একটি অংশ ইপিজেডের জন্য বরাদ্দ দিলেও বিমানবন্দর সচল রাখার নির্দেশনা ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, কুমিল্লা বর্তমানে দেশের অন্যতম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী জেলা। জেলার প্রায় ৬৫ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে ১৩ শতাংশ মানুষ প্রবাসে অবস্থান করছেন। বিমানবন্দরটি চালু হলে এসব প্রবাসী সরাসরি কুমিল্লা হয়ে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন, যা জনগণ ও বিমান কর্তৃপক্ষ উভয়ের জন্যই লাভজনক হবে।
সংসদ সদস্য আরও জানান, বর্তমানে বিমানবন্দরের রাডার টাওয়ার ও অন্যান্য স্থাপনা ব্যবহার করে প্রতিদিন বহু বিমান চলাচল করছে এবং এর মাধ্যমে মাসে প্রায় দুই কোটি টাকা আয় হচ্ছে।
বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রেও বিমানবন্দরটির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বিমানবন্দর সংলগ্ন কুমিল্লা ইপিজেডে বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা কারখানা পরিদর্শনে আসেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায়ই যানজটের কারণে তাদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিমানবন্দর চালু হলে ভারত, চীন, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা সহজে ইপিজেডে যাতায়াত করতে পারবেন, যা নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
স্বাস্থ্যসেবার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিমানবন্দরটি চালু হলে এ অঞ্চলের মানুষ উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকাসহ ভারত ও সিঙ্গাপুরে দ্রুত যাতায়াত করতে পারবেন।
এছাড়া কুমিল্লার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে পর্যটকদের যাতায়াত সহজ হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর ফলে এ অঞ্চলে পর্যটন শিল্পেরও বিকাশ ঘটবে।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন বিমানবন্দর নির্মাণ হলেও কুমিল্লার বিদ্যমান বিমানবন্দরটি চালু করা হয়নি। এটি কুমিল্লার প্রতি অবজ্ঞা ও বৈষম্যের প্রতিফলন বলে মনে হয়। তিনি প্রধানমন্ত্রী ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে কুমিল্লা বিমানবন্দর দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।