তৌফিকুর রহমান তাহের, বিশেষ প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের দিরাই ও শাল্লা উপজেলায় বর্তমানে মাদক পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গাঁজা, মদ, ইয়াবা এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি চোলাই মদের দাপট শুধু বাড়ছেই না, এর প্রভাব পড়েছে পুরো সমাজ ব্যবস্থায়।

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় দিরাই-শাল্লায় মাদকের বিস্তার নিয়ে ব্যাপক লেখালেখি হচ্ছে। পেরুয়া গ্রামের মোশাররফ মিয়া, দৌলতপুর গ্রামের শাহিন মিয়া এবং স্থানীয় সাংবাদিক ফোরামের সদস্যরা একের পর এক সংবাদ প্রকাশ করে মাদকের প্রতিকারের দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু হতাশার বিষয় হলো, এই ব্যাপক সচেতনতা ও সংবাদ প্রকাশের পরও মাদক ব্যবসায়ীরা থেমে নেই। বরং দিরাই-শাল্লায় মাদক যেন বেড়েই চলেছে।

দিরাই ও শাল্লা উপজেলার বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও পেজে প্রতিদিন মাদকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন স্থানীয় মানুষ। তরুণ প্রজন্মের ধ্বংস হয়ে যাওয়া, পরিবারগুলোতে অশান্তি বৃদ্ধি এবং আইন-শৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। নাগরিকরা দাবি করেন, অনতিবিলম্বে কঠোর আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে মাদক ব্যবসা ও সেবন বন্ধ করা হোক।

পেরুয়া গ্রামের মোশাররফ মিয়া বলেন, “আমরা দিনের পর দিন মাদক বন্ধের দাবি জানাচ্ছি। কিন্তু কোনো কার্যকর প্রতিকার পাচ্ছি না। মাদকের কারণে আমাদের যুবসমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।”

দৌলতপুর গ্রামের শাহিন মিয়া জানান, “সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখালিখির কারণে কিছুটা সচেতনতা বাড়লেও মাদকের সরবরাহ কমেনি। উল্টো যেন বেড়েছে। আমরা চাই পুলিশ প্রশাসন আরও সক্রিয় হোক।”

সাংবাদিক ফোরামের সদস্যরা জানান, তারা প্রতিনিয়ত মাদক সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ করে আসছেন, কিন্তু মাদক নির্মূলে শুধুমাত্র পুলিশ বা সাংবাদিকদের তৎপরতা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন পুরো সমাজের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা।

দিরাই ও শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) দাবি করেছেন, তারা মাদক নির্মূলে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

দিরাই থানার ওসি এনামুল হক চৌধুরী বলেন, “আমরা মাদক নির্মূলে প্রাণপন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এবং প্রতিনিয়ত মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করছি। মাদক নির্মূলের জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”

শাল্লা থানার ওসি রোকিবোজ্জামান একই কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, “পুলিশ কাজ করছে, আমরা গ্রেফতার করছি। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত এলাকার মানুষ সোচ্চার হবে না, সচেতন হবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত মাদক পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। আমরা সবার সহযোগিতা চাই। আমাদের তথ্য দিন।”

উভয় ওসিই একমত যে, প্রশাসনের তৎপরতার পাশাপাশি জনসচেতনতা ও তথ্য প্রদান খুবই জরুরি।

দিরাই-শাল্লাকে মাদকমুক্ত করতে হলে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা অপরিহার্য। শুধুমাত্র সংবাদ প্রকাশ বা সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখালেখি যথেষ্ট নয়। নিচের পদক্ষেপগুলো দ্রুত নেওয়া যেতে পারে:

জনসচেতনতা বৃদ্ধি স্থানীয় ক্লাব, স্কুল, কলেজ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মাদকবিরোধী প্রচার অভিযান চালানো।

কমিউনিটি পুলিশিং শক্তিশালী করা প্রতিটি পাড়া ও গ্রামে মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করে নিয়মিত সভা করা।

কঠোর আইনি পদক্ষেপ মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা।

সবাই মিলে সোচ্চার হলে এবং পুলিশ ও জনগণের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি হলে অবশ্যই সুনামগঞ্জের দিরাই-শাল্লা মাদকমুক্ত হবে ইনশাআল্লাহ।