মোঃ সোহরাব আলী, তেঁতুলিয়া পঞ্চগড় প্রতিনিধি : পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র রায় টিআর কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পে ১৫ শতাংশ ঘুষ নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস রুমে কয়েকজন প্রকল্প সভাপতি ও ইউপি সদস্য নিয়ে কমিশনের দেন দরবার ও ঘুষ গ্রহনের ওই ভিডিওতে উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র রায়কে বলতে দেখা যায়, মেম্বার সাহেব আপনার ৮ টন গম না, ৪০ করে।মেম্বার বলেন, না স্যার ৩২ হাজার করে। পিআইও তাহলে ৩২ ইন্টু ৮, ২ লাখ ৫৬ হাজার ইন্টু ১৫ পারসেন্ট যদি দেন, ৩৮ হাজার টাকা আসে। মেম্বার এতো স্যার একটু কম করে নেন, ৩৮ হাজার টাকা স্যার কাজের তো লাভও হয়নি। পিআইও মেম্বারলার কোনদিন লাভ হয় না। মেম্বার আসলে আমার কাজটা আপনি দেখেননি স্যার। পিআইও এটা কোনদিন শুনছেন মেম্বারলা বলছে আমার লাভ হইছে, আপনারা বলেন আমি যে এতোদিন পিআইও করতেছি। আমাক কোন মেম্বার বলে নাই আমার লাভ হইছে। মেম্বার কামেরতো চাপ স্যার দলীয় ভাবে, জনগনও চায় কাজ একটু ভাল হোক। পিআইও আমার কথা আমি বলছি এখন আপনার কোন কথা থাকলে বলেন।

এক ব্যক্তি বলে উঠলেন চাচার একটা টিআর আছে।পিআইও বলেন কত? মেম্বার ১ লাখ ৬২ হাজার। পিআইও ১ লাখ ৬২ ইন্টু ১৫, ২৪ হাজার। মেম্বার ২৪ হাজার স্যার, আমরা তো সাড়ে তিন বছর পরিষদেই আসিনি, কাজতো আমরা হান্ড্রেড পারসেন্ট করি স্যার।পিআইও শুনেন আপনারে আগে পরিষদে আসতে দেয় নাই, এরপর থেকে আপনারাও এখন আসতে দিবেন না, শোধবোধ। মেম্বার শোধবোধ কেমনে হইল স্যার। আমরা আছি দেড় বছর, পাঁচ বছর তো আর নয়া করে ফিরে আসবেনা, সাড়ে তিন বছর গেছে আর দেড়টা বছর।

আরেক মেম্বার টিআর আছে একটা স্যার। পিআইও টিআর কত? মেম্বার ১ লাখ ২০ হাজার। পিআইও ক্যালকুলেটর চাপে বলেন ১৮ হাজার টাকা। মেম্বার কাজতো এবার স্যার করছি হান্ড্রেড পারসেন্ট। পিআইও এবার কোন কথা না বলে, অপর আরেকজন ব্যক্তিকে দুইটা প্রকল্প স্ক্রীমের হিসাব দিয়ে বলেন আপনার দুইটা মিলে ৫৬ আসে। এক মেম্বার বলে উঠলেন স্যার আমারটা কম বেশ করে নিয়ে নেন স্যার, আমরা কোনদিন কাজ কাম করি নাই। পিআইও মাথাটা একটু ভাল করে চুলকাও। মেম্বার টাকা গুনে দিচ্ছিলেন। পিআইও বললেন স্যার নেন না, পিআইও অফিসটাতো আপনাদেরেই আপনারাই কন, মেম্বারের সামনে ফাইল রেখে বলেন নেও।

অভিযুক্ত উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র রায় বলেন ওরা কাজ না করে বিল নিতে আসছিল, তাই এসব কথা হয়েছে।

দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অঙফিসার ইন্দ্রজীত সাহা বলেন, বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জেনেছি।আমি জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধতন কর্মকর্তাকে জানাব এবং স্থানীয়ভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন এ কর্মকর্তা।