রোমান আহমেদ, জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরে অটোরিকশা চালক হত্যার ঘটনায় ৬জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

জামালপুরের ইসলামপুরে চরপুটিমারী ইউনিয়নের বেনুয়ারচর এলাকায় গত মঙ্গলবার ২৩ জুন অর্ধগলিত মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিন রাতেই ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। পরে বুধবার ২৪ জুন দুপুরে তাঁদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের নাম নায়েব আলী (৩৫), তিনি মেলান্দহ উপজেলার কাজাইকাটা এলাকার বাসিন্দা। তিনি পেশায় রিকশাচালক ছিলেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-মেলান্দহ উপজেলার নাহিদুল ইসলাম (৩০), সোলাইমান (৫০), শফিকুল ইসলাম (৪১), আবদুল কাদের (৫৪), রাসেল হোসেন (৩৪) ও সাগর পাশা (২৬)।

জামালপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেন,’গত ২১ জুন নায়েব আলী নিখোঁজ হন। এঘটনায় তার পরিবারের সদস্যরা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। দুইদিন পর ইসলামপুরের বেনুয়ারচর থেকে লাগেজবন্দী অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার হয়। মরদেহের অবস্থা খারাপ হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা প্রথমে সেটি শনাক্ত করতে পারেননি।’

তিনি বলেন,’মরদেহের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করা যায়নি লাশের এমন অবস্থা ছিলো। পরে নিখোঁজ নায়েব আলীর জিডির তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নিহতের পরিবারের সদস্যদের আবার মর্গে গিয়ে মরদেহটি দেখতে বলা হয়। সেখানে নায়েব আলীর পরনের কাপড় ও শরীরে থাকা তাবিজ দেখে স্বজনেরা তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করেন।’

পুলিশ সুপার আরও বলেন,’হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে প্রথমে নাহিদুল ইসলামের ওপর নজর রাখা হয়। পরে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নিহতের মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে নাহিদুল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যদের গ্রেপ্তার করা হয়। এবং নিহতের অটোরিকশার বিভিন্ন যন্ত্রাংশও উদ্ধার করা হয়। যন্ত্রাংশগুলো আলাদা আলাদা স্থানে বিক্রি করা।

তিনি আরও বলেন,’ ১০ হাজার টাকা প্রয়োজন হলে নাহিদুল তার কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে রিকশা ছিনিয়ে নিতে পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী তাঁদের ভাঙারির দোকানে কৌশলে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে অটোরিকশা চালকের পেছন থেকে জিআই তার দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহটি একদিন একটি ড্রামের ভেতরে রেখে।‌ এসময়ে অটোরিকশা বিভিন্ন যন্ত্রাংশে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে দেন। পরে মরদেহটি একটি লাগেজে ভরে ভোরে ইসলামপুরের বেনুয়ারচর এলাকার মাছের ঘেরে ফেলে রেখে যান অভিযুক্তরা।

এঘটনায় ইসলামপুর থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার ছয়জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের দাবি, আদালতে তাঁরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।