তৌফিকুর রহমান তাহের, বিশেষ প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’-এর সহায়তায় খরিদকৃত বেদখল হওয়া জায়গা ফেরত পেয়েছে একটি ভুক্তভোগী পরিবার। দীর্ঘদিনের ভোগান্তি শেষে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দ্রুত এই অধিকার ফিরে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন তারা।

প্রশাসনের যৌথ অভিযান ও উচ্ছেদ
গত শুক্রবার ধর্মপাশা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সঞ্জয় ঘোষের নেতৃত্বে এবং সার্ভেয়ার রুহুল আমীনের উপস্থিতিতে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতায় ঘটনাস্থলে জমির মাপজোঁক করা হয়। এরপর অবৈধভাবে নির্মিত টিনশেডের দোকানকোঠা ভেঙে আবেদনকারীকে ২১ শতক জায়গার দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পটভূমি ও অবৈধ দখল মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাহিরপুর উপজেলার মহজমপুর গ্রামের অভিজিৎ সরকার ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে দুটি সাফ কবালা দলিলমূলে সুখাইড় বাজারের মোট ২১ শতক জমি ক্রয় করেন। জমিটি নিজ নামে নামজারি (মিউটেশন) করিয়ে তিনি নিয়মিত সরকারি খাজনাও পরিশোধ করে আসছিলেন।
তবে জমি ক্রয়ের পরপরই, অর্থাৎ ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর দিকজান গ্রামের চন্দ্র কুমার দাস, জাকির মিয়া, আয়না মিয়া এবং বাবুল মিয়াসহ একটি গ্রুপ রাতারাতি সেখানে দোকানঘর নির্মাণ করে অবৈধভাবে তা দখল করে নেয়। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ-বিচার হলেও দখলদাররা তা অমান্য করে। পরবর্তীতে জমির মালিক অভিজিৎ সরকার থানায় মামলা দায়ের করেন এবং জমি দেখভালের জন্য তাঁর শ্বশুর দীপু তালুকদারকে আমমোক্তারনামা (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি) প্রদান করেন।
জমিটি উদ্ধারের জন্য দীপু তালুকদার গত ১৪ মে ধর্মপাশা উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন’-এর অধীনে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) দখলদারদের একাধিক নোটিশ পাঠালেও তারা জমি ছাড়েনি। অবশেষে গত ২৬ জুন শুক্রবার প্রশাসন সরেজমিনে সুখাইড় বাজারে গিয়ে অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান চালায়। আংশিক সময় প্রদান ২১ শতক জমির মধ্যে ১৮ শতক জায়গা তাৎক্ষণিকভাবে সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করে মালিককে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি আড়াই শতক জায়গায় মালামাল থাকায়, দখলদার ও স্থানীয়দের অনুরোধে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার জন্য ১ সপ্তাহের সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে।

ন্যায়বিচার পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে দীপু দাস বলেন,
আমরা সঠিক বিচার পেয়েছি। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহোদয়ের উপস্থিতিতে বাকি আড়াই শতক জায়গা খালি করার জন্য দখলদাররা এক সপ্তাহের সময় চেয়েছে। আমরা তাঁদের অনুরোধ রেখেছি। আশা করি এক সপ্তাহ পর অবশিষ্ট জায়গার দখলও আমরা পেয়ে যাব।
ধর্মপাশা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সঞ্জয় ঘোষ জানান, ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের আওতায় অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা বাদীর সব কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করি। দখলদারদের একাধিকবার নোটিশ দেয়ার পর শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হয়েছে। বাকি অংশের মালামাল সরাতে তারা এক সপ্তাহ সময় চেয়েছে, এরপর বাকি জমিও মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হবে।