পঞ্চগড় প্রতিনিধি : পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার গজপুরী এলাকায় সরকারের বৈধ বালুমহালের বালু পরিবহন বন্ধ করতে গভীর রাতে রেকর্ডভুক্ত সরকারি রাস্তা কেটে ফেলার ঘটনায় ভূমি বিভাগের লিখিত অভিযোগের এক সপ্তাহ পার হলেও এখনো থানায় মামলা হয়নি।
গত রবিবার ২৮ জুন দিবাগত রাতে করতোয়া নদীর তেলীপাড়া ঘাট থেকে বালু পরিবহনের একমাত্র সংযোগ সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত ১৬ ফুট প্রস্থের সরকারি রেকর্ডভুক্ত রাস্তার একটি অংশ কোঁদাল ও ট্রাক্টর দিয়ে কেটে পাশের আবাদি জমির সমান করে দেয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে ব্যবহৃত ট্রাক্টরটি জব্দ করা হয়। পরদিন ২৯ জুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দেবীগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ বিন জিয়া এবং রাস্তা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেন।
এই ঘটনায় একই দিন রাতেই সোনাহার ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান দেবীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে সুরুজ আলী, আলী ইমরান, বাহাদুর ইসলাম, মোতালেব হোসেন, আব্দুল হাই, জয়নাল আলী, আরমান আলী, আব্দুল জলিল ও নজরুল ইসলামসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
সোনাহার ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, “লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। মামলা রেকর্ডের বিষয়টি নিয়ে স্যাররা বলতে পারবেন।”
দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুসা মিয়া বলেন, “তদন্ত কার্যক্রম শেষে যেটা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সেটা নেয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীৎ সাহা বলেন, “অফিসার ইনচার্জকে প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।”
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর উপজেলা সভাপতি ও গণমাধ্যমকর্মী জাকির হোসেন কবির রাজু উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, “সরকারি সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগে সময়মতো আইনগত ব্যবস্থা না নেয়া হলে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে সরকারি রাস্তা ও অন্যান্য সরকারি সম্পদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি আইনের শাসন নিয়ে জনমনে নেতিবাচক বার্তা যেতে পারে।”