তৌফিকুর রহমান তাহের, বিশেষ প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের শাল্লায় চলন্ত ইঞ্জিলচালিত নৌকায় এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী নিজে বাদী হয়ে শাল্লা থানায় একটি এজাহার দায়ের করার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত বখাটে যুবক হেলিম মিয়াকে (১৯) গ্রেফতার করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় শাল্লা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর ১০ ধারায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে (মামলা নং-০৬)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ঢাকার নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ২য় বর্ষের ছাত্রী।

গত ৭ জুলাই তিনি ঢাকা থেকে শাল্লায় তাঁর ভগ্নিপতির বাসায় বেড়ানোর উদ্দেশ্যে রওনা হন। বিকেল আনুমানিক ৩:৪৫ টার দিকে শাল্লা থানাধীন কান্দিগাঁও ঘাট থেকে তিনি একটি নৌকাযোগে ঘুঙিয়ারগাঁওয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

নৌকাটি কান্দিগাঁও থেকে আনুমানিক ১ কিলোমিটার পূর্বদিকে কান্দখলা হাওরে পৌঁছালে নৌকার মাঝি হেলিম মিয়া (১৯) ভেতরে বসা ওই ছাত্রীর স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে যৌন নিপীড়ন করে। এ সময় তরুণীটি চিৎকার শুরু করলে নৌকায় থাকা অন্য যাত্রী পিন্টু চন্দ্র দাস তাৎক্ষণিকভাবে এগিয়ে আসেন এবং বখাটের কবল থেকে তাঁকে রক্ষা করেন।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নৌকা ঘাটে নেমে তাঁর ভগ্নিপতিকে বিষয়টি জানান। ঘটনা শুনে তিনি শাল্লা থানা পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ কালক্ষেপণ না করে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং অভিযুক্ত হেলিম মিয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকিবুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে পদক্ষেপ নিয়েছি এবং অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। নারীর নিরাপত্তা ও উত্ত্যক্তকরণের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ সর্বদা শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি অবলম্বন করে। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং আসামিকে আজ বুধবার সাড়ে বারোটার দিকে সুনামগঞ্জের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।