মো, সোহরাব আলী, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড় প্রতিনিধি : পঞ্চগড়ের কিডনি রোগীর অনুদানের চেকের টাকা উত্তোলন করতে না পারায় চেকের বিষয়ে জানতে গিয়ে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের হাড়িভাসা শাখার সেকেন্ড অফিসার ফরিদুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে সাংবাদিক লাঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। লাঞ্চিত হওয়া সাংবাদিক হচ্ছেন, পঞ্চগড় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি এবং এনটিভির স্টাফ রিপোর্টার, বাংলা ট্রিবিউন, দৈনিক ইত্তেফাক ও ইউএনবি নিউজের প্রতিনিধি সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ।

আজ ৮ জুলাই বুধবার দুপুরে এই লাঞ্চিতের ঘটনা ঘটে। এ সময় সাংবাদিক সাজ্জাদকে তথ্য সংগ্রহে বাঁধা এবং ভিডিও বক্তব্য ধারণ করতে নিষেধ সহ অশালীন আচরণ করা হয়। এ সময় প্রায় ঘন্টাব্যাপী ব্যাংকটিতে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটে। পরে হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খবর পেয়ে দুইজন ইউপি সদস্যসহ গ্রাম পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

জানা যায়, পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বাসিন্দা হাজেরা খাতুন কিডনী রোগের আর্থিক সহযোগিতার চেক গত ১০/১২ দিন আগে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের হাড়িভাসা শাখায় জমা দেন। পরে দীর্ঘদিনেও পার হলেও টাকা উত্তোলন করতে না পারায় বিষয়টি পঞ্চগড় সোনার বাংলা ফাউন্ডেশনের কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টারের ম্যানেজার আরিফুর রহমান আরিফ হোসেন ঘটনাটি সাংবাদিক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদকে জানান। অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার দুপুরে হাড়িভাসা কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে খোঁজ নিতে ব্যাংকে প্রবেশ করে ওই শাখার ম্যানেজার জোতির্ময় রায়ের সাথে কথা বলে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করছিলেন সাংবাদিক সাজ্জাদ। অনুমতি সাপেক্ষে ম্যানেজারের ভিডিও বক্তব্য নেয়ার সময় ওই ব্যাংকের সেকেন্ড অফিসার ফরিদুল ইসলাম সুজন আচমকা এসে সাংবাদিককে ভিডিও রেকর্ড বন্ধ করার হুমকি দেন। সেই সাথে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ব্যাংকের কর্মচারীদের দরজা তালা বন্ধ করতে বলেন। এবং বলেন, বেটাকে ধরো বলেই ব্যাংকটির সেবা গ্রহীতাদের ব্যাংক থেকে বের করে দিয়ে কিডনি ফাউন্ডেশন এর ম্যানেজার ও সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেনকে ব্যাংকের ভিতরে অবরূদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে হাড়ি ভাসাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গ্রাম পুলিশসহ হাড়িভাষা ইউনিয়ন পরিষদের দুইজন ইউপি সদস্য জুলহাস এবং গোবিন্দ্র চন্দ্র কে পাঠালে তারা ব্যাংকে প্রবেশ করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পরে সাংবাদিক সাজ্জাদ ও পঞ্চগড় সোনার বাংলা ফাউন্ডেশনের কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টারের ম্যানেজার আরিফুর রহমান আরিফকে মুক্ত করে ব্যাংক থেকে বের হয়ে যেতে সাহায্য করেন। এ ঘটনায় তেঁতুলিয়া প্রেসক্লাবসহ জেলার অন্যান্য সাংবাদিক, সামাজিক ও পেশাজী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং উপজেলা প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ পূর্বক তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত ব্যাংক কর্মকর্তাদের ব্বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা দাবি জানান এবং নেতৃবৃন্দ বলেন, ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ঘটনাটির সরে জমিন তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা না নিলে সাংবাদিক মহল কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।