মো আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের যাদুকাটা নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়ের করা মামলার চূড়ান্ত চার্জশিটকে কেন্দ্র করে তাহিরপুরে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এজাহারে নাম থাকা সত্ত্বেও পাড়কাটার মূল হোতা লুটতরাজদের নাম বাদ পড়া এবং চার্জশিটে নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্ত করায় অভিযুক্তদের পরিবার ও এলাকাবাসী পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৫ এর ৪(২), ৬(২), ১২ ও ১৫(১) ধারায় দায়ের করা মামলাটি তাহিরপুর থানায় নথিভুক্ত হয়। তদন্ত শেষে সম্প্রতি আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।

চার্জশিটভুক্তরা অভিযোগ করেন, তদন্তে প্রকৃত ঘটনা ও সাক্ষ্য-প্রমাণ সঠিকভাবে যাচাই করা হয়নি। এজহারের বাইরে থেকে যাদের নাম চার্জশিটে আনা হয়েছে তারা ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন। অন্যদিকে যারা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে তাদের নাম বাদ পড়েছে।

এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ আসামিপক্ষের একাধিক ব্যক্তি বলেন, আমরা নির্দোষ। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে আমাদের নাম ঢোকানো হয়েছে। প্রকৃত অপরাধীরা অর্থ ও প্রভাব খাটিয়ে বেঁচে গেছে।

চার্জশিটে স্থান পাওয়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন তাহিরপুর উপজেলার লাউড়েরগড় উত্তর শ্রীপুর বলারপাড়,বানাগাঁট, পুরানহাটি, সোনাপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।

উল্লেখযোগ্য নামগুলো হলো: মোশাহিদ হোসেন নান্নু, মোশারফ হোসেন কামিল, আখতার উদ্দিন, তোফাজ্জল আহমেদ তামিম, মোস্তফা মিয়া, শাহজাহান, সোহান, কবির মিয়া, তাওহিদ, বিজয় চেয়ারম্যান, আনোয়ার, বেলাল মিয়া, সাবুজ মিয়া, শিমুল, আরিফ, আনোয়ার, জোহরান মিয়া, জীবন মিয়া, মোজাম্মিল মিয়া, মাহমুদ, জামাল, আহসান মিয়া, রাকাব উদ্দিন, আলী হোসেন, শাহীন আলমসহ আরও অনেকে।

এ বিষয়ে পুনঃতদন্তের আবেদন জানিয়ে সুনামগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি আবেদন দাখিলের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন অভিযুক্তদের স্বজনরা।

সুনামগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, “তদন্তকারী কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করে প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই চার্জশিট দাখিল করেছেন। এখন বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার। আদালত যা সিদ্ধান্ত দেবেন সেটিই চূড়ান্ত।

এ ঘটনার পর তাহিরপুরের যাদুকাটা নদী তীরবর্তী এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, যাদুকাটা নদীর পরিবেশ রক্ষা এবং নিরপরাধ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

উল্লেখ্য, যাদুকাটা নদীর পাড় কাটা ও অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে বিগত কয়েক বছরে এলাকার কৃষি জমি ও জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পরিবেশ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম সোমবার সুনামগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (তাহিরপুর জোন) অভিযোগপত্র জমা দেন।
‎বালু লুট মামলায় এজাহার ভুক্ত ১০ জন বাদ গেলেও আসামির তালিকায় আছে বিভিন্ন সময় বালু লুটের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী মো শফিকুল ইসলামের নাম। এ নিয়ে এলাকায় শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন। ‎গত বছরের ১৫ অক্টোবর জাদুকাটা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে তাহিরপুর থানায় ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০ জনকে আসামি করে মামলা করেন পরিবেশ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাইমিনুল হক।

চার্জশীটে বিভিন্ন সময়ে বালু লুট ও পাড়কাটার বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী মো শফিকুল ইসলাম বলেন, বালু লুট ও পাড়কাটার মূল হোতারা টাকার বিনিময়ে চার্জশীট থেকে নাম কাটিয়েছেন কিন্তু আমি সর্বদাই পাড়কাটার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি কিন্তু আমি নিজেই চার্জশীটে ৫ নং আসামি।

‎‎‎মোহাইমিনুল হক বলেন, তদন্তে যাঁদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, শুধু তাঁদের বিরুদ্ধেই অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় অন্যদের নাম বাদ দেয়া হয়েছে।