পঞ্চগড় প্রতিনিধি : ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান সরকার ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। জিডিপির দুই শতাংশ ব্যয় করে গতানুগতিক শিক্ষাপদ্ধতি থেকে বেরিয়ে যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা প্রনয়ণ করাই বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি।

শনিবার ১১জুলাই দুপুরে বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারিদের চাকুরি জাতীয়করণের দাবিতে এক শিক্ষক-কর্মচারি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

এ সময় বর্তমান তারেক রহমান সরকারকে শিক্ষাবান্ধব উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ আজাদ বলেন, বিগত যেকোনো সরকারের চেয়ে ১২ ফেব্রুয়ারির পরে শপথ নেয়া বর্তমান সরকারের পার্থক্য অনেক। আমরা জনগণের রায় নিয়ে সরকার গঠন করেছি তাই নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সকল প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে এখন থেকে ৫৬ মাস পরে জনগণের জবাবদিহিতার কাছে দাড়াতে চাই। তাই দলীয়করণ থেকে বেরিয়ে মান সম্মত শিক্ষাব্যবস্থা প্রনয়ণ করতে যা যা করণীয় তাই করতে এই সরকার পরিকল্পবদ্ধ।
প্রতিমন্ত্রী আজাদ শিক্ষক-কর্মচারি ও অভিভাবকদের উদ্দেশ্য করে আরও বলেন, মাদক আমাদের তরুণ প্রজন্মকে নিঃশেষ করে ফেলছে। পঞ্চগড় জেলাকে মাদক মুক্ত করতে শিক্ষক কর্মচারী ও অভিভাবকদের ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা চাই।

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষক ও কর্মচারিরা হলেন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি। আপনাদের দীর্ঘদিনের দাবি ও বৈষম্যের বিষয়ে বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। “বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারিদের জাতীয়করণের এই যৌক্তিক দাবিটি আমি নিজে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জোরালোভাবে উপস্থাপন করব, যাতে দ্রুত একটি ইতিবাচক সমাধান আসে।

শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোট বোদা উপজেলা শাখার সভাপতি সাইফুল ইসলাম সোহাগের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম, শিক্ষক কর্মচারী ঐক্য জোটের জেলা সভাপতি তোয়াবুর রহমান, ঠাকুরগাঁও জেলা সভাপতি তাজউদ্দীন সহ বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসার এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে উপজেলার হাজার হাজার বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারী অংশ নেন।

বক্তারা, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বৈষম্যের কথা তুলে ধরেন। এরমধ্যে সকল এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মরত কর্মচারীদের চাকরি দ্রুত জাতীয়করণ করা, সরকারি কর্মচারীদের ন্যায় শতভাগ উৎসব ভাতা, বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা প্রদান করা, অবসরে যাওয়ার পর শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ ও অবসর সুবিধা পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করা বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য।