পঞ্চগড় প্রতিনিধি : পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দীর্ঘ দিন ধরে টানানো নেই সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক বাধ্যতামূলক ‘সিটিজেন চার্টার’ বা নাগরিক সেবা সনদ। এর ফলে কোন সেবার সরকারি ফি কত, তা জানতে পারছেন না সাধারণ মানুষ। এই সুযোগে অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে প্রতিনিয়ত অতিরিক্ত অর্থ ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা সেবাগ্রহীতারা।

মঙ্গলবার ১৪ জুলাই সরেজমিনে বোদা ইউনিয়ন ভূমি অফিস ঘুরে দেখা গেছে, অফিসের ভেতরে বা বাইরে দৃশ্যমান কোনো স্থানে সিটিজেন চার্টার টাঙানো নেই। ই-নামজারি, খাজনা (ভূমি উন্নয়ন কর) আদায়, পর্চা বা খতিয়ানের নকল তোলাসহ বিভিন্ন সেবার জন্য সরকার নির্ধারিত সুনির্দিষ্ট ফি থাকলেও সাধারণ সেবাগ্রহীতারা তা জানতে পারছেন না।

ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সেবামূল্যের তালিকা না থাকায় ভূমি অফিসের কর্মচারীরা তাদের ইচ্ছামতো টাকা দাবি করেন। টাকা কম দিলে দিনের পর দিন ফাইল আটকে রাখা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সেবাগ্রহীতা জানান, একটি সাধারণ নামজারি (মিউটেশন) করতে সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা দাবি করা হয়েছে তার কাছে। চার্টার না থাকায় তারা কোনো জোর দিয়ে প্রতিবাদও করতে পারছেন না।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যে, প্রতিটি ভূমি অফিসে সেবার তালিকা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সরকার নির্ধারিত ফি সম্বলিত ডিজিটাল বা অ্যানালগ সিটিজেন চার্টার প্রকাশ্য স্থানে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। বোদা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে এই নিয়মের তোয়াক্কাই করা হচ্ছে না।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, তথ্য অধিকার আইন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে অবিলম্বে এই অফিসে সিটিজেন চার্টার স্থাপন করা জরুরি। অন্যথায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও আর্থিক শোষণ বন্ধ করা সম্ভব হবে না।

এই বিষয়ে বোদা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার রায় জানান, বেশ কিছুদিন আগে এই ভবন রঙ করার কারণে সিটিজেন চার্টার ছিড়ে গেছে সেটি পরে আর লাগানো হয়নি। সিটিজেন চার্টার ছাড়াই ভালো সেবা দিচ্ছেন দাবী করা এই কর্মকর্তা কে কৃষি জমি, অনাবাদি, আবাসিক, বাণিজ্যিক জমিতে কি হারে খাজনা বা কর আদায় করা হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, আমার মনে পরছেনা আমি মুখস্থ করিনি কারণ কখনো প্রয়োজন পরেনি।

ভারপ্রাপ্ত উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ বিন জিয়া বলেন, আমি ছুটিতে আছি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সিটিজেন চার্টার না থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গৃহীত হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিউল ইসলাম জানান, “ভূমি অফিসে সিটিজেন চার্টার থাকা বাধ্যতামূলক। যদি বোদা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে এটি না থাকে, তবে তদন্ত করে দ্রুত তা স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হবে এবং জনগণের ভোগান্তি দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।”