সাভার প্রতিনিধি : ভূমিদস্যু ও অসাধু সিন্ডিকেটের অপপ্রচার, কুৎসা রটনা কিংবা পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র কোনোভাবেই তাঁকে ন্যায়সংগত দায়িত্ব পালনের পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আমিন বাজার ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব ভূমি সেবা নিশ্চিত করাই তাঁর একমাত্র অঙ্গীকার।
সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, আমিন বাজার ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগদানের পর থেকেই ভূমিদস্যু ও অসাধু সিন্ডিকেটের অবৈধ স্বার্থে আপস না করায় একটি স্বার্থান্বেষী মহল ধারাবাহিকভাবে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন নিবন্ধনবিহীন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত করার পাশাপাশি পতিত সরকারের দোসর হিসেবে উপস্থাপনের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মনিরুজ্জামান বলেন, “আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমরা যারা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, তারা কোনো রাজনৈতিক দলের নই; আমরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। জনগণের ভোটে যে সরকারই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করুক না কেন, সংবিধান, আইন ও সরকারি বিধি-বিধান অনুযায়ী তাদের অধীনে দায়িত্ব পালন করাই আমাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব। এটিকে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা হিসেবে ব্যাখ্যা করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
তিনি আরও বলেন, “আমি সবসময় আইন, বিধি ও নীতিমালার আলোকে সততা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি। কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা প্রভাবশালী মহলের অবৈধ স্বার্থ রক্ষার জন্য কখনো আপস করিনি এবং ভবিষ্যতেও করব না।”
সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত দাবি করে প্রকাশিত সংবাদ, পোস্টার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া প্রচারণার বিষয়ে তিনি বলেন, এসব তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর ভাষ্য, একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ কিংবা একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রমের অংশ। এমন ছবি বা ভিডিওকে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা অনৈতিক, বিভ্রান্তিকর এবং উদ্দেশ্যমূলক।
তিনি অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী চক্র তাঁর সততা, সুনাম ও পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে পুরোনো ও সম্পাদিত (এডিটেড) ছবি ব্যবহার করে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার অপচেষ্টা চলছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দৃঢ় কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি কোনো রাজনৈতিক দলের দোসর নই এবং কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমার ন্যূনতম সম্পৃক্ততাও নেই। আমি রাষ্ট্রের আইন, সরকারি বিধিমালা ও পেশাগত নীতিমালা অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করেছি এবং ভবিষ্যতেও করে যাব। আমার বিরুদ্ধে পরিচালিত যেকোনো মিথ্যা, মানহানিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো তথ্য প্রকাশ বা প্রচারের আগে অবশ্যই নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে সত্যতা যাচাই করা উচিত। গুজব, অপপ্রচার কিংবা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে কাউকে বিচার না করারও আহ্বান জানান তিনি।
সাক্ষাৎকারের শেষাংশে মনিরুজ্জামান বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যতই অপপ্রচার চালানো হোক না কেন, আমি জনগণের সেবায় নিবেদিত থেকে সততা, নিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাব। ভূমিদস্যু, দালালচক্র কিংবা কোনো অসাধু সিন্ডিকেটের চাপের কাছে আমি কখনো মাথা নত করব না। আইন ও ন্যায়ের পক্ষে থেকে জনগণের সেবা করাই আমার অঙ্গীকার। সত্য ও ন্যায়ের পথেই আমি অটল থাকব।”