মো আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় প্রভাবশালী নেতা কর্তৃক “ডুবাইল বিল গ্রাউন্ড জলমহাল” দখলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বৈধ ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা, নৌকা ভাঙচুর ও মাছ লুটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় গত ১৯ জুলাই “জয়ধনা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিঃ এর সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সদস্য মো. মালেক সিকদার বাদী হয়ে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এরই জের ধরে মঙ্গলবার ২১ জুলাই দুপুরে ২০ থেকে ২৫ জন মিলে দুটি নৌযান নিয়ে অনধিকার জলমহালে প্রবেশক্রমে মহড়া দিয়ে ইজারাদারের নৌকা ভাংচুর, মাছ লুট ও পাহাড়াদারকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকার ক্ষয় ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০০১ সালের সমবায় আইনে নিবন্ধিত জয়ধ্বনা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি সরকারের কাছ থেকে ১৪২৮ বাংলা সন হতে ১৪৩৩ বাংলা সনের ৩০শে চৈত্র পর্যন্ত ধর্মপাশা উপজেলাধীন ডুবাইল বিলের ১ নং শাখার সায়রাতের ইজারা গ্রহণ করে। জলমহালের আয়তন ৬০ একর ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বার্ষিক ৪০ লাখ ২৮ হাজার ২২০ টাকা সমিতি নিয়মিত সরকারি ইজারা মূল্যসহ অন্যান্য কর পরিশোধ করে ছয় বছরের জন্য জলমহালে ভোগদখলকার থেকে মৎস্য সংরক্ষণ করে আসছিল। কিন্তু ধর্মপাশা উপজেলার প্রভাবশালী ২০-২৫ জনের একটি দল দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে জলমহালে প্রবেশ করে সংরক্ষিত মাছ জোরপূর্বক আহরণ করে আসছে।

অভিযোগে সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনার কথা বলা হয় গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং, সকাল ৮ টার দিকে ওইদিন অভিযুক্তরা রামদা, ছুরি, লোহার রড ও বিভিন্ন প্রকার কারেন্ট জালসহ ৩টি ইঞ্জিনচালিত নৌকাযোগে জলমহালে অনধিকার প্রবেশ করে। টের পেয়ে পাহারাদার সাক্ষীরা একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকাযোগে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের বাধা দিলে অভিযুক্তরা গালমন্দ শুরু করে। পাহারাদার মোজাফফর হক প্রতিবাদ করলে তৎকালীন সময়ে ২০-২৫ জন লোক লাঠি দিয়ে পাহারাদারদের এলোপাতাড়ি মারপিট করে এবং নৌকা থেকে পানিতে ফেলে দেয়।

পাহারাদারদের চিৎকার শুনে সমিতির সাবেক সভাপতি বর্তমান নির্বাচিত সদস্য মো. মালেক সিকদার অন্য একটি নৌকাযোগে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, অভিযুক্তরা বিভিন্ন জাতের মাছ লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। লুটকৃত মাছের আনুমানিক মূল্য ৫ লক্ষ টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। যাওয়ার সময় অভিযুক্তরা বিভিন্ন ধরণের হুমকিও দিয়ে যায়।

এমতাবস্থায় জলমহালের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সরকারি রাজস্ব আদায় নিশ্চিতকরণের নিমিত্তে প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদানের জন্য বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সমিতির সভাপতি।

ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি), মৎস্য অফিসার, অফিসার ইনচার্জ ধর্মপাশা থানাকে অনুলিপি দেয়া হয়েছে।

অভিযোগের তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বৈধ মৎস্যজীবীরা। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

অভিযোগকারী আরও জানান, এভাবে চলতে থাকলে সরকার রাজস্ব হারাবে এবং প্রকৃত মৎস্যজীবীরা তাদের পেশা থেকে বঞ্চিত হবে যা বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক।

এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে জলমহাল সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে অভিযোগকারীরা প্রশাসনের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মো নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেন, বর্তমান ইজারাদার ফ্যাসিস্ট। শুনেছি রিপন মিয়া এ বছর ডুবাইল বিলের লীজের জন্য বিডি জমা দিয়েছে। তার দাওয়াতেই আমরা কয়েকজন নেতাকর্মী ডুবাইল বিলে বেড়াতে গিয়েছিলাম। আমার জানা মতে রিপন মিয়া বৈধ ইজারাদার। বিল দখলের পায়তারা, নৌকা ভাংচুর,মাছ লুট ও পাহাড়াদারকে হুমকির বিষয়টি সত্য নয়।