কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের আলোচনা সভা কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট সরকারের বিদায়ের পর একটি পক্ষের গায়েবি মামলা, মামলা নিয়ে ব্যবসা এবং প্রকৃত অপরাধীদের আশ্রয় দেয়ার কারণে সাধারণ মানুষের কাছে আমরা অসম্মানিত হয়েছি। এ সব কারণে আমাদের মাঝে অনৈক্য সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিএনপি সরকার সঠিক পথে এগোচ্ছে, মূল অপরাধীদের রেখে চার্জশিট দেয়া হচ্ছে।

বুধবার ৫ আগস্ট সকালে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, “যারা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে, তারাই এখন দেশপ্রেমের দীক্ষা দিচ্ছে। তারাই জনগণকে দেশপ্রেমের বয়ান শেখাচ্ছে।”

জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণ করে তিনি বলেন, “আমি জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে খুব ব্যথিত। অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা তাদের ভুলে যেতে বসেছি। আমরা জুলাই যোদ্ধাদের প্রকৃত সম্মান দিতে পারিনি। সকল জুলাই শহীদ, আহত যোদ্ধা ও পঙ্গুত্ব বরণকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলতে চাই—বিএনপি ও আমি জুলাইকে বিশ্বাস করি, স্মরণ করি। যেমনিভাবে কালিমা তাইয়্যেবাকে বিশ্বাস করি, তেমনিভাবে ঈমানী দায়িত্ব নিয়ে বিশ্বাস করি জুলাই যুদ্ধ আমাদের অর্জন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অর্জন।”

এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি কুমিল্লা টাউন হল থেকে শুরু হয়ে শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।

জেলা প্রশাসক রোজী আকতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এমপি মনিরুল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. আলী নুর মোহাম্মদ বশির, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, সিনিয়র সহ-সভাপতি আমিরুজ্জামান ভুঁইয়া, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহসহ জুলাই যোদ্ধা, আহত ও নিহতদের পরিবারের সদস্যরা।

সভায় বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। নতুন প্রজন্মের কাছে এ আন্দোলনের ইতিহাস, আত্মত্যাগ ও চেতনা তুলে ধরতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।