কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লার লাকসামে সাইফুল ইসলাম সোহান হত্যা মামলায় মো. মিজানুর রহমান হাজারী (৬৫) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে একই মামলার অপর আসামি তার ছেলে মেহেদী হাসানকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার ৬ আগস্ট দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (পঞ্চম আদালত) মোহাম্মদ সুলতান উদ্দীন প্রধান এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত মিজানুর রহমান হাজারী লাকসাম উপজেলার চিকুনিয়া দক্ষিণপাড়া হাজারী বাড়ির মৃত আলী হোসেনের ছেলে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ৮ এপ্রিল টাকা-পয়সা লেনদেনকে কেন্দ্র করে সাইফুল ইসলাম সোহানের সঙ্গে মিজানুর রহমানের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মিজানুর রহমান ধারালো দা দিয়ে সোহানকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন।

আহত সোহানকে প্রথমে মুজাফফরগঞ্জ হেলথ কেয়ার প্রাইভেট লিমিটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে কুমিল্লা ট্রমা হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০২১ সালের ১৮ মে রাত ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা রুহুল আমিন ২০২১ সালের ২৬ এপ্রিল লাকসাম থানায় মিজানুর রহমান হাজারীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে তদন্ত শেষে পুলিশ আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

২০২৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মিজানুর রহমান হাজারী ও তার ছেলে মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

অন্যদিকে, মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ এনামুল হক সরকার।