‎জেলা প্রতিনিধি : নওগাঁর মান্দা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চৌবাড়িয়া গরুর হাটে প্রতি হাটবারে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের ব্যাপক সমাগম ঘটে। প্রায় ১০ কোটি টাকার এই হাট জমজমাট থাকলেও সরু সংযোগ সেতুর কারণে হাটের দিনে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন গরু ব্যবসায়ী, ক্রেতা, পরিবহন চালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

‎স্থানীয়রা জানান, চৌবাড়িয়া গরুর হাটে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে সংকীর্ণ। হাটের দিনে গরুবাহী ট্রাক, পিকআপ, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় সেতুটি দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে সেতুর দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

‎বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু নিয়ে আসা ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের যানজটে আটকে এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি গরু পরিবহনেও নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারাও নিয়মিত দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

‎এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি সংকীর্ণ থাকলেও এটি প্রশস্ত বা পুনর্নির্মাণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সময়ের সঙ্গে হাটের পরিধি ও যানবাহনের সংখ্যা বাড়লেও সেতুটির সক্ষমতা বাড়েনি। ফলে হাটবার এলেই যানজট যেন নিয়মিত চিত্রে পরিণত হয়েছে।

‎চৌবাড়িয়া গরুর হাটের ইজারাদার লুৎফর রহমান ও নাসির উদ্দীন মণ্ডল বলেন, চৌবাড়িয়া নওগাঁ জেলার অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী গরুর হাট। হাটের দিনে সেতুটিতে প্রচণ্ড যানজট সৃষ্টি হয়। ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের ভোগান্তি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি জরুরি ভিত্তিতে প্রশস্ত করা প্রয়োজন।

‎মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আক্তার জাহান সাথী বলেন, চৌবাড়িয়া নওগাঁ জেলার একটি ঐতিহ্যবাহী ও বৃহৎ গরুর হাট। হাটের দিনে যানজটের কারণে মানুষের দুর্ভোগ হচ্ছে। যানজট নিরসনে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। পাশাপাশি সেতুটি প্রশস্ত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সুপারিশ করা হবে।

‎স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সেতুটি প্রশস্ত ও পুনর্নির্মাণ করা হলে চৌবাড়িয়া গরুর হাটে আসা ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের ভোগান্তি কমবে। পাশাপাশি হাটকেন্দ্রিক যানবাহন চলাচলও স্বাভাবিক হবে বলে প্রত্যাশা তাদের।