তৌফিকুর রহমান তাহের, বিশেষ প্রতিনিধি : দীর্ঘ অপেক্ষার পর সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি কার্যক্রমের নিয়োগের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। তবে ফলাফল প্রকাশের পরপরই প্রার্থী বাছাই ও পদ বণ্টন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়দের একাংশ।
প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জয়কলস ইউনিয়নের জামলাবাজ গ্রাম থেকেই চারজন শুমারি কর্মী নিয়োগ পেয়েছেন। অথচ উক্ত ইউনিয়নের অন্যান্য গ্রাম থেকে দু’জন বা তারও কমসংখ্যক প্রার্থী নেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট একটি গ্রাম থেকে তুলনামূলক বেশি প্রার্থী নিয়োগের ক্ষেত্রে কী ধরনের নীতিমালা বা মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
একইভাবে বিতর্ক তৈরি হয়েছে সুপারভাইজার নিয়োগ নিয়েও। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে একজন করে সুপারভাইজার নিয়োগের কথা থাকলেও প্রকাশিত তালিকায় পশ্চিম পাগলা ও জয়কলস—এই দুটি ইউনিয়ন থেকেই দু’জন করে সুপারভাইজার রাখা হয়েছে। অতিরিক্ত সুপারভাইজার নিয়োগের ক্ষেত্রে এলাকাগুলোর জনসংখ্যা, পরিবারের সংখ্যা নাকি অন্য কোনো প্রশাসনিক মানদণ্ড বিবেচনা করা হয়েছে, তা নিয়ে স্পষ্ট তথ্য চান স্থানীয়রা।
কর্মরত শিক্ষকের সুপারভাইজার হওয়া নিয়ে প্রশ্ন
বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের নিয়োগ তালিকাকে কেন্দ্র করে। স্থানীয়দের দেয়া তথ্যানুযায়ী, সেখানে ‘পাগলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ’-এ কর্মরত একজন শিক্ষককে সুপারভাইজারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একজন কর্মরত শিক্ষক কীভাবে একই সময়ে শুমারি কার্যক্রমের সুপারভাইজারের দায়িত্ব পালন করবেন এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন রয়েছে কি না—সে বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

উল্লেখ্য, ফ্যামিলি কার্ডের শুমারি কর্মী নিয়োগের শুরু থেকেই স্বজনপ্রীতি ও দলীয় প্রভাবের অভিযোগ ছিল। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ফলাফল প্রকাশিত হলেও বিতর্কের নিরসন হয়নি, বরং পদে পদে বৈষম্যের প্রশ্নে পুরনো অভিযোগগুলো ফের আলোচনায় এসেছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফেরাতে প্রার্থী বাছাইয়ের নীতিমালা, মেধাক্রম এবং ইউনিয়ন ও গ্রামভিত্তিক পদ বণ্টনের মানদণ্ড জনসম্মুখে প্রকাশ করা জরুরি। ফ্যামিলি কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মসূচিতে যেন কোনো বিভ্রান্তি বা বিতর্ক সৃষ্টি না হয়, সেজন্য শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ও স্পষ্ট আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন তারা।