মো আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার মহাসিং নদীর উথারিয়া বেড়িবাধেঁর উভয় তীরের নিকট থেকে
পরিবেশ বিধ্বংসী ড্রেজার দিয়ে দিনরাত ২৪ ঘন্টা অবৈধভাবে মাটি-বালু উত্তোলন করে
বিক্রী বন্ধ ও দেখার হাওরের এক ফসলি কৃষি জমি রক্ষায় বালু-মাটি খেকোদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জেলা পুলিশ সুপার বরাবরে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগ মাধ্যমে জানা যায়, কৃষক ও মৎস্যজীবিদের পক্ষে স্থানীয় বাসিন্দা শামীম আহমেদ এবং ইকবাল হোসেন এর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড মহাসিং নদীর বাঁধ রক্ষা সহ অবৈধ পরিবেশ বিধ্বংসী ড্রেজার বন্ধে জেলা পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উত্তর পূর্বাঞ্চল বাপাউবো সিলেট, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সিলেট পানি উন্নয়ন সার্কেল বাপাউবো সিলেট, জেলা প্রশাসক সুনামগঞ্জ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শান্তিগঞ্জ,উপ-সহকারী প্রকৌশলী শাখা কর্মকর্তা জগন্নাথপুর পানি উন্নয়ন শাখা -১ বাপাউবো সুনামগঞ্জ বরাবরে সদয় অবগতির জন্য অনুলিপি প্রেরণ করা হয়।

সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেড়িবাঁধ ও নদীর তীর কেটে বালু-মাটি ড্রেজার দিয়ে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এতে নদী ও বেড়িবাঁধের স্থায়িত্ব এবং স্থানীয় কৃষিজমি ও জনপদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে মহাসিং নদী ও উথারিয়া নদীর উভয় তীরের বেড়িবাঁধের মাটি কেটে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে। এতে নদীর তীর ও বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে ভাঙন ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

এদিকে কৃষক ও মৎস্যজীবিদের উদ্যোগে শান্তিগঞ্জের সমাবেশে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও তোলা হয়। তারা অভিযোগ করেন আস্তমা গ্রামের শাহবাজ মিয়ার ছেলে আঙ্গুর মিয়ার নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এবং মাসুক মিয়া, সাজ্জাত মিয়া, নুর আহমেদ, সাজু মিয়া ও শফিকুন নুরসহ কয়েকজন এ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে।

সমাবেশে মহাসিং নদী ও উথারিয়া বেড়িবাঁধের মাটি কাটা ও বিক্রি বন্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সরকারি সম্পদ ও পরিবেশ রক্ষায় নিয়মিত নজরদারি এবং অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানান ভুক্তভোগীরা।