মো. আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার মিয়ারচর, বিন্নাকুলি, লাউড়েরগড় ও বড়গোপটিলা এই চারটি খেয়াঘাটে সরকার নির্ধারিত রেট চার্ট অনুযায়ী নিয়ম মেনে টোল খাস কালেকশন আদায় করা হচ্ছে।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, হাইকোর্ট বিভাগের সিভিল রিভিশন মামলা নং ২৭৪০/২০২৪-এর কারণে উন্মুক্ত নিলামের সুযোগ না থাকায় জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণাধীন চারটি খেয়াঘাট ২০২৬-২৭ অর্থবছরেও সরকারের দখল ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত রেট চার্ট অনুসরণ করে ইজারাদারের মাধ্যমে নিয়ম অনুযায়ী টোল আদায় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
জেলা পরিষদ সূত্র আরও জানায়, খেয়াঘাটগুলো থেকে সরকার নির্ধারিত হারে টোল আদায়ের মাধ্যমে নিয়মিত রাজস্ব আদায় হচ্ছে। ফলে স্থানীয় জনগণ ও যাত্রীদের কাছ থেকেও নির্ধারিত হারের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ নেই।
এ দিকে মিয়ারচর, বিন্নাকুলি, লাউড়েরগড় ও বড়গোপটিলা খেয়াঘাটের ইজারা ও পরিচালনা নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন আলোচনা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ঘাটগুলোর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
মিয়ারচর খেয়াঘাটের জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও আদালতে মামলা থাকার বিষয়টি নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট মামলার নথি, বর্তমান অবস্থা ও সর্বশেষ আদালতের আদেশ যাচাই-বাছাই করে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ঘাটের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
জেলা পরিষদ কার্যালয় থেকে জারি করা একটি চিঠিতে হাইকোর্ট বিভাগের একটি সিভিল রিভিশন মামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট জমির দখল ও অবস্থান সম্পর্কে স্থিতাবস্থা (status quo) বজায় রাখার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। ওই নির্দেশনার আলোকে ঘাটগুলোর কার্যক্রম পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
এ বিষয়ে সাবেক ও বর্তমান ইজারাদার ওয়াহিদ মিয়া বলেন, “২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সরকারকে ৪২ লাখ টাকা রাজস্ব প্রদান করে কর্তৃপক্ষের দেওয়া রেট চার্ট অনুসারে খেয়াঘাট পরিচালনা করছি। সরকার নির্ধারিত হারেই যাত্রী ও পণ্য পারাপারের টোল আদায় করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “ঘাট পরিচালনায় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলা হচ্ছে এবং নিয়মের বাইরে কোনো টোল আদায় করা হচ্ছে না।”
স্থানীয়রা জানান, খেয়াঘাটগুলো নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হওয়ায় প্রতিদিনের যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা নির্ধারিত হারে পারাপারের সুযোগ পাচ্ছেন। পাশাপাশি এসব ঘাট থেকে সরকারের রাজস্বও আদায় হচ্ছে।
তাহিরপুর উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা মো মেহেদী হাসান মানিক বললেন, সরকারি নির্দেশনা ও নির্ধারিত রেট চার্ট অনুসরণ করে খেয়াঘাট পরিচালনার ফলে একদিকে যেমন যাত্রীদের পারাপার ব্যবস্থা সচল রয়েছে, অন্যদিকে সরকারও নিয়মিত রাজস্ব পাচ্ছে।
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সমর কুমার পাল বলেন, “খেয়াঘাটগুলো জেলা পরিষদের নির্ধারিত নিয়ম ও রেট চার্ট অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত হারে টোল আদায় এবং রাজস্ব নিশ্চিত করার বিষয়টি কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।