তৌফিকুর রহমান তাহের, বিশেষ প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। গত ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে দায়ের করা এই মামলায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ১নং সলুকাবাদ ইউনিয়নের রসুলপুর সাকিনস্থ জামিয়া আবু হুরায়রা (রাঃ) এতিমখানা সংলগ্ন পাকা রাস্তার ওপর নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীরা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যে মিছিল ও সমাবেশের চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে গত ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বিশ্বম্ভরপুর থানায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩)/২৫D ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয় (মামলা নম্বর: ২৪)।

মামলার এজাহারে নাম উল্লেখ থাকা উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন— বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. তৈয়বুর রহমান (৪৪), সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সম্পাদক মেহেদী হাসান সাকিব (২৬), সাবেক সাধারণ সম্পাদক নোমান বখত পলিন (৫১), জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি দীপঙ্কর কান্তি দে (২৮), সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাফায়েত জামিল (২৮), তাহিরপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সালমান মিয়া (২৭), সহ-সাধারণ সম্পাদক মুক্তার হোসেন আখঞ্জী (২৬), শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের ছাত্রলীগ সদস্য আজহার মিয়া (৩২), ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রাজিন পাল (৩০), স্বেচ্ছাসেবক লীগের দপ্তর সম্পাদক সাব্বির মিয়া (৩৩), যুবলীগ নেতা মারুফ খান (২৮), ছাত্রলীগ সদস্য সজল মিয়া (২৮), প্রচার সম্পাদক হৃদয় মিয়া (২৮), স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি রাজা (২৫), বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সদস্য দেলোয়ার হোসেন (৩২) পলাশ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সদস্য সেলিম মিয়া (৫০), বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি খালেদ তালুকদার (৪২) এবং শাহিন মিয়া (২৬)।

এ দিকে মামলার বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সুনামগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সোয়েব আহমেদ চৌধুরী বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসবেন—এই বিষয়টি হয়তো তারা নিশ্চিতভাবে বুঝতে পেরেছে। আর সে কারণেই আওয়ামী লীগ কোনো মিছিল বা কর্মসূচি দিলেই ঢালাওভাবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ও মামলা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, এভাবে একের পর এক মামলা ও হামলা চালিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে কোনোভাবেই দমিয়ে রাখা যাবে না।”

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহমদ উল্লাহ ভূঞা বলেন, “আমি থানায় নতুন যোগদান করেছি। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি এটি একটি নিয়মিত মামলা এবং ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।