ভোলা প্রতিনিধি : ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষা বিচ্ছিন্ন ইউনিয়ন ঢালচরের সরকারি খালগুলোতে বিষ প্রয়োগ করে অবাধে মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। প্রতিনিয়ত বিষপ্রয়োগের ফলে খালের ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও জলজ প্রাণী মরে ভেসে উঠছে, ফলে চরম হুমকির মুখে পড়ছে জীববৈচিত্র্য।
অভিযোগে জানা যায়, পূর্ব ঢালচরসহ ঢালচর ইউনিয়নের বিভিন্ন সরকারি খালে ও সংলগ্ন জলাশয়ে দিন-রাত্রির যেকোনো সময়ে মাছ শিকারের অবৈধ কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ খালের পানিতে ফেলার পরপরই চিংড়ি, পোয়া, বাইলা, ট্যাংরাসহ নানা প্রজাতির প্রাকৃতিক মাছ মরে পানির ওপরে ভেসে ওঠে। এতে কেবল মাছের বংশবৃদ্ধিই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, বরং বিষাক্ত পানি পানের কারণে চরাঞ্চলের গবাদিপশু ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীও চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও প্রভাবশালী মহলের নজরদারিতে উদাসীনতার কারণে এমন কর্মকাণ্ড বেপরোয়া রূপ নিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, এই পরিবেশবিধ্বংসী অপরাধে সরাসরি যুক্ত রয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এদের মধ্যে চিহ্নিত হিসেবে উঠে এসেছে জনৈক মিরাজ, খালেক, এরশাদ, রিপন, শাকিলসহ স্থানীয় ১০/১৫ জেলে ও অসাধু ব্যক্তি। অভিযোগ রয়েছে যে, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ও প্রত্যক্ষ মদদে সাধারণ জেলেদেরও এই অবৈধ কাজে লিপ্ত হতে বাধ্য বা উৎসাহিত করা হচ্ছে।
ঢালচরের সাধারণ অধিবাসী ও সচেতন জেলেদের মতে, এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে এক দিকে যেমন প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদ বিলুপ্ত হচ্ছে, অন্যদিকে খালের বিষাক্ত পানি ব্যবহার করায় ছড়িয়ে পড়ছে নানাবিধ রোগ ব্যাধি। এলাকার অসাধু ব্যক্তিদের এই অন্যায় দৌরাত্ম্য বন্ধে ও ঢালচরের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা করতে সাধারণ মানুষ এখন দ্রুত প্রশাসন ও প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ দাবি করছে।
উপকূলের এই মূল্যবান জলজ সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অনতিবিলম্বে ঢালচরের সরকারি খালগুলোতে যৌথ অভিযান চালানো জরুরি। বিষপ্রয়োগের সাথে জড়িত মূল হোতা ও তাদের পেছনের আশ্রয়দাতাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে অদূর ভবিষ্যতে ঢালচরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মক ক্ষতির মুখোমুখি হবে।