সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : ধর্মপাশায় সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী রাজস্ব প্রদান করে ইজারাপ্রাপ্ত জলমহাল থেকে বৈধ ইজারাদারের প্রতিনিধিদের তাড়িয়ে দিয়ে বিতর্কিত অবৈধ দখলদারদের হাতে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। ধর্মপাশা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলামের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছে ক্ষতিগ্রস্ত ‘জয়ধনা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি’।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের ‘ডুবাইল বিল গ্রুপ জলমহালটি’ নিয়মতান্ত্রিকভাবে ইজারা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণ ও মাছ চাষ করে আসছিলেন জয়ধনা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সদস্যরা। কিন্তু গত ২৩ আগস্ট শনিবার‌ বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এসআই শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে ধর্মপাশা থানা পুলিশের একটি দল সরেজমিনে বিল এলাকায় অবস্থান নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পুলিশ কোনো ধরনের আদালতের নিষেধাজ্ঞা বা সরকারি প্রশাসনিক নির্দেশনা ছাড়াই বিলে অবস্থানরত বৈধ ইজারাদারের লোকজনকে জোরপূর্বক তাড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে পূর্বের ৯ জন চিহ্নিত ও প্রভাবশালী অবৈধ জবরদখলকারীর হাতে বিলটির সার্বিক দেখভাল ও পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দেয়া হয়।

জয়ধনা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সদস্য মালেক সিকদার জানান, আমাদের পাহারাদারদের মারধর, নৌকা ভাঙচুর ও মাছ লুটপাটের ঘটনায় গত ১৯ আগস্ট জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্ত সাপেক্ষে বিভাগীয় কমিশনার অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে বৈধ ইজারাদার সমিতিকে বিলের দখল বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করে এসআই শরিফুল ইসলাম আমাদের লোকজনকে তাড়িয়ে দিয়ে উল্টো জবরদখলকারীদের হাতে বিলের দায়িত্ব সমঝে দিয়েছেন। ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য জায়েদনুর বলেন, শনিবার বিকেলে এসআই শরিফুল ইসলাম পুলিশ দল নিয়ে ডুবাইল বিলে গিয়ে আমাকে ফোন করেন। আমি বিলে যাওয়ার পর তিনি মৌখিকভাবে আমাকেসহ আগের ৯ জন পাহারাদারকে বিল রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেন। প্রশাসনিক নির্দেশনা অমান্য করার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত এসআই শরিফুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ প্রাপ্ত অভিযোগ এবং এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেই পুলিশ সেখানে যায়। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানোই পুলিশের মূল উদ্দেশ্য ছিল কাউকেই অবৈধভাবে বিলের দখল পাইয়ে দেওয়ার জন্য পুলিশ সেখানে যায়নি। সরকারি নিয়ম মেনে রাজস্ব প্রদানের পরও প্রভাবশালী মহলের চাপে পুলিশি ভূমিকার কারণে জলমহালের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন জয়ধনা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ মৎস্যজীবীরা। এ ঘটনায় স্থানীয় মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সমিতিটি দ্রুত ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে।

ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমাম হোসাইন বলেন, উপ-পরিদর্শক শরিফুল ইসলাম ডুবাইল বিল গ্রুপ জলমহালে গিয়ে ইজারাদারের লোকজনকে তাড়িয়ে দিয়ে দখলবাজদের হাতে বিল হস্তান্তর করার বিষয়টি আমার জানা নেই।