পঞ্চগড় প্রতিনিধি : বাড়িতে চলছিল ধুমধাম করে বিয়ের আয়োজন। বরযাত্রীদের আপ্যায়নের জন্য গরু জবাইসহ শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। রাত পোহালেই মেয়ের বিয়ে। এরই মধ্যে বিদ্যুতের তার সরাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেলেন কনের মা রসেনা বেগম (৫০)। এতে বিয়ের আনন্দ মুহূর্তেই ফিকে হয়ে পরিণত হয়েছে শোকে।
দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার ২৬ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের ভাণ্ডারু গ্রামে। নিহত রসেনা বেগম ওই গ্রামের ইলিয়াস প্রামাণিকের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট পারিবারিকভাবে রসেনা বেগমের মেয়ে ইসিরনের (২২) বিয়ে হওয়ার কথা ছিল হাড়িভাসা ইউনিয়নের সাহেব বাজার ব্যাংক পুকুর এলাকার এক যুবকের সাথে। সে উপলক্ষে বুধবার রাতেই বাড়িতে বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন করা হচ্ছিল। পুরো বাড়ি সাজানোর পাশাপাশি বরযাত্রী ও অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য রাতে গরুও জবাই করা হয়।
বিয়ের আয়োজনের অংশ হিসেবে বাড়ির কাজ করছিলেন কনের মা রসেনা বেগম। একপর্যায়ে বাড়িতে পড়ে থাকা একটি বৈদ্যুতিক তার বাম হাত দিয়ে সরাতে গেলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রসেনা বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় বিয়েবাড়ি ও পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মর্মান্তিক এ ঘটনার পর সাময়িকভাবে বিয়ে পিছিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার।
এ বিষয়ে নিহতের ভাগিনা সাইফুল ইসলাম বলেন, আমাদের পরিবারের সবাই বিয়ের আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত ছিল। এর মধ্যে বাড়ির কাজ করার সময় আমার ফুফু বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পঞ্চগড় সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মকলেছুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি শোনার পর মরদেহ পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছিল। ঘটনা তদন্ত পূর্বক বৈদ্যুতিক স্পৃষ্টে রসেনা বেগমের মারা যাবার বিষয়টি সামনে আসায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এবং থানায় একটি অপ-মৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে।