চরফ্যাশন প্রতিনিধি : ভোলার চরফ্যাশনে পাট গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় ৬ জন গুরুতর হয়েছে। আহতদের চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বরিশাল শেরে বাংলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হামলার ঘটনায় ৭ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৩/৪ জনকে আসামী করে শশীভূষণ থানায় মামলা করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের ওমরাবাজ গ্রামের ২নম্বর ওয়ার্ডে শফিউল্লাহ গং উপজেলার হাজারীগঞ্জ ৩ ওয়ার্ডের মৃত লুৎফর রহমানের সাথে দীর্ঘদিন ধরেজমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। বুধবার ২৬ আগস্ট শফিউল্লাহ গং বাড়ি পাশে নিজ ভোগদলীয় জমিতে রোপিত পাটগাছ কাটতে গেলে বিবাদী মুছলিমা, শাখাওয়াত ও মনিরসহ প্রতিপক্ষের লোকজন দা,ছেনি ও লাটি সোটা নিয়ে অতর্কিতভাবে তাদের ওপর হামলা করে। এতে ফরিদ (৩৫) আকতারা বেগম (৪০)রাশেদা বেগম (৩৮) সামিয়া (১৮) শফিউল্লাহ মেম্বার (৭০),সিয়াম (২০) গুরুতর আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে গুরুতর আহত সামিয়া ও ফরিদকে চিকিৎসকরা বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন সংশ্লিষ্ট ডাক্তার। আহত সকলের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে। হামলার ঘটনায় মো : শফিউল্লাহ বাদী হয়ে শশীভূষণ থানায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। আসামীরা হলেন, হাজারীগঞ্জ ৩ নং ওয়ার্ডের শাখাওয়াতের স্ত্রী মুসলিমা, মোঃ রফিক উল্লাহর ছেলে শাখাওয়াত হোসেন, মনির হোসেন, শাহিন (বিজিবি সদস্য) মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে মোঃ রফিকউল্লাহ, রফিক উল্লাহর স্ত্রী মরিয়ম, শাহিনের স্ত্রী নাজমাসহ অজ্ঞাত আরো ৩/৪ জন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত আকতারা বেগম বলেন, বিরোধীয় জমি নিয়ে একাধিকবার শালিসী বৈঠক হয়েছে। সালিসের রায় না মেনে তারা জোর-জবর করে জমি দখল নিতে চায়। এজন্য তারা আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে। মামলার ১নং আসামী মুসলিমা সম্পর্কে এক প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা বলেন, এ মহিলা বেপরোয়ারা। কথায় কথায় যার তার সাথে ঝগড়া করে। এ মহিলা আহতদের ওপর দুর্ধর্ষ হামলা করে। হামলার ব্যাপারে বক্তব্য জানতে গেলেও সাংবাদিকদের সাথে সে খুব খারাপ আচরণ করে।
প্রতিপক্ষের অভিযুক্ত সাখাওয়াত বলেন,তাদের জমি পেছনে আমাদের জমি সামনে। তারা আমাদের জমির পাটগাছ কাটলে আমরা ভিডিও করি। সেখানে শফিউল্লাহ মিয়া আমাদের গালমন্দ করে ও আমাদের উপর হামলা করে। এঘটনায় প্রতিপক্ষের শাখাওয়াত ও মুসলিমা নিজেদের আহত দাবী করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বুধবার দুপরের পর আসলেও বিকেলের পর হাসাপাতালে আর তাদেরকে দেখা যায় নি।
শশীভূষণ থানার ওসি ফিরোজ আহম্মদ জানান, পাটগাছ কাটা নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামী গ্রেফতারে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত আছে।