মোঃ ইয়াছিন মিয়া, কুমিল্লা প্রতিনিধি : ইমারত আইন ও নির্মাণবিধি না মেনে ভবন নির্মাণের অভিযোগে কুমিল্লা নগরীতে অভিযান শুরু করেছে কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।
রবিবার ৩০ আগস্ট সকাল থেকে শুরু হওয়া দিনব্যাপী অভিযানের শুরুতে নির্মাণাধীন চারটি টি ভবনের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া আরো চারটি ভবনের অনুমোদনের কাগজপত্র তলব করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু।
চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু বলেন, চারটি ভবনকে নোটিশ দিয়ে নির্মান কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে । বৈধ কাগজপত্র ও অনুমোদন দেখাতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ভবন মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অথরাইজড অফিসার প্রকৌশলী মোঃ সিরিফুল হক বলেন, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ তাদের প্রথম অভিযানে নগরের মোট আটটি ভবনকে পর্যবেক্ষণ করেছে। এরমধ্যে আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন রয়েছে। অভিযানে গিয়ে আমরা ভবন গুলোতে তাদের নির্বাণ অনুমোদনের কাগজপত্র পাইনি। এমনও দেখা গেছে যে ভবনের আসা যাওয়ার পথ শর্ত অনুযায়ী না রেখেই বহুতল নির্মাণ করা হয়েছে। পার্কিং বে না রাখা, সেটব্যাক না রাখা, নিরাপত্তা প্রাচীরসহ নানান অনিয়ম পাওয়া গেছে।
আমরা নির্মাণ কাজ সাময়িক বন্ধের কথা বলে কাগজপত্র গুলো আনতে বলেছি। আশা করি সেগুলো তারা নিয়ে আসবে।
তিনি জানান, রবিবার সকালে নগরীর ফৌজদারি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় ডেলমন ডেভলপারস্ এর একটি নির্মাণাধীন ভবনের পর্যাপ্ত রাস্তা না থাকায় ভবন মালিককে শোকজ করা হয়। পাশাপাশি ভবন নির্মাণের বৈধ কাগজপত্র ও অনুমোদন দেখাতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করতে না পারলে ভবনটির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানায় কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।
পরে দুপুরে নগরীর কান্দিরপাড় টাউন হলের সামনের এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে সিলভার আলী টাওয়ার নামে নির্মাণাধীন বানিজ্যিক ভবনের কাগজপত্র দেখতে চাওয়া হলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপন করতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা। এ কারণে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় ইমারত আইন লঙ্ঘনের দায়ে ভবনটির বিরুদ্ধে আইনানুগ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানানো হয়।
অপর দিকে কান্দিরপাড় বাদুরতলা সড়কে কাজী টাওয়ার নামের একটি বানিজ্যিক ভবনের সিঁড়ি এবং সীমানা প্রাচীর ফুটপাতের উপরে উঠে আসায় ওই ভবন মালিক কর্তৃপক্ষকে শোকজ করা হয় এবং অনুমোদনের কাগজ দেখানো ব্যতীত কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়।
কুমিল্লাকে সুন্দর, নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে ভবন মালিক, ডেভেলপারসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান।