কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লা নগরীতে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংসে অভিযান পরিচালনা করেছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক)। অভিযানে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ভবন ও আশপাশের স্থাপনা পরিদর্শন করে জমে থাকা পানি ও এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল খুঁজে দেখা হয়। এ সময় তিনটি ভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট ভবন মালিকদের মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে নগরীর ঝাউতলা, বাদুরতলা ডাক্তার পাড়া ও পশ্চিম পাড় এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
কুসিক সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিতভাবে এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্তকরণ ও ধ্বংসের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার দুপুরে কুসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল ঝাউতলা ও বাদুরতলা ডাক্তার পাড়াসহ আশপাশের এলাকায় অভিযান চালায়।
অভিযানের শুরুতে নগরীর ঝাউতলা এলাকায় ডা. আব্দুল করিমের বাসভবন পরিদর্শন করা হয়। সেখানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ভবন মালিককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ভবনের আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণ এবং ভবিষ্যতে যাতে কোনো স্থানে পানি জমে এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
পরে ঝাউতলা ডাক্তার পাড়া এলাকায় নোমান নামের এক ব্যক্তির একটি ভবনে অভিযান চালানো হয়। সেখানে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই এলাকায় ও নগরীর পশ্চিম পাড়ে পরিচালিত অভিযানে আরও একটি বহুতল ভবনে এডিস মশার প্রজননের উপযোগী পরিবেশ পাওয়ায় ভবন মালিককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান চলাকালে কুসিকের কর্মকর্তারা বিভিন্ন ভবনের ছাদ, নির্মাণাধীন অংশ, পরিত্যক্ত পাত্র, ড্রাম, টব ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি পরীক্ষা করেন। এ সময় ভবন মালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিজ নিজ ভবন ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকতে না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
কুসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। অভিযানের সময় নগরবাসীকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ করে বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পানির পাত্র, নির্মাণাধীন ভবন ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করার পরামর্শ দেয়া হয়।
কুসিক প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, “ডেঙ্গু মশার উপদ্রবের হটস্পট শনাক্ত, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের লক্ষ্যে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ শুধু সিটি করপোরেশনের একক দায়িত্ব নয়; নগরবাসীকেও নিজ নিজ বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কোথাও যাতে দীর্ঘ সময় পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, নগরীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন এলাকায় পরিদর্শন ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। এডিস মশার লার্ভা কিংবা প্রজননস্থল শনাক্ত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের সচেতন করা হচ্ছে।
কুসিক কর্মকর্তারা বলছেন, বর্ষা ও বৃষ্টির পর বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশার বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়। তাই শুধু ওষুধ ছিটানোর ওপর নির্ভর না করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নগরবাসীর সহযোগিতা ছাড়া এ কার্যক্রম পুরোপুরি সফল করা কঠিন বলেও জানান তারা।
এদিকে বৃহস্পতিবারের অভিযানে তিনটি ভবন থেকে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত হওয়ার ঘটনায় নগরীর ভবন মালিকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কুসিকের পক্ষ থেকে ভবন মালিকদের নিয়মিত নিজ নিজ স্থাপনা পরিদর্শন করে পানি জমার স্থানগুলো পরিষ্কার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে এ ধরনের অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে আরও জোরদার করা হবে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় এডিস মশার ঘনত্ব বা ডেঙ্গুর ঝুঁকি বেশি বলে শনাক্ত হবে, সেসব এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হবে।
সিটি করপোরেশন প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে—নিজ নিজ বাসাবাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও আশপাশে কোথাও পানি জমতে না দেওয়া, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং এডিস মশার প্রজননস্থল দেখলে দ্রুত তা ধ্বংস করা। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে নগরীতে ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।