কুমিল্লা প্রতিনিধি : জাতীয় সমবায় দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে কুমিল্লায় আয়োজন করা হয়ে ছিল এক দিনব্যাপী সমবায় মেলা। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মেলা চলার কথা থাকলেও উদ্বোধনই হয় দুপুরে। আর উদ্বোধনের মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে মেলা গুটিয়ে নিতে শুরু করেন বিভিন্ন স্টলের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা। ফলে দিনব্যাপী মেলার আয়োজন শেষ হয় কার্যত কয়েক মিনিটেই। এ ঘটনায় মেলার উদ্দেশ্য ও আয়োজনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রবিবার ৮ নভেম্বর কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে জেলা সমবায় বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ মেলার আয়োজন করা হয়। মেলায় বিভিন্ন সমবায় সংগঠনের অংশগ্রহণে মোট ১০টি স্টল সাজানো হয়। এসব স্টলে সংগঠনগুলোর উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির জন্য রাখা হয়েছিল।
আয়োজকদের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, সকাল ৯টায় মেলা শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে মেলা উদ্বোধন না হওয়ায় স্টলগুলোতে পণ্য বিক্রি শুরু করেননি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। পরে দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে মেলার উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উদ্বোধনের পর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও সমবায় বিভাগের কর্মকর্তারা স্টলগুলো পরিদর্শন করেন। তাঁদের পরিদর্শন শেষ হতে না হতেই প্রায় পাঁচ মিনিটের মধ্যে স্টল মালিকরা পণ্য গুছিয়ে নিতে শুরু করেন। একপর্যায়ে স্টলগুলো ফাঁকা হয়ে যায়। ফলে মেলায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ, পণ্য প্রদর্শন কিংবা সমবায় কার্যক্রম সম্পর্কে জানার সুযোগ কার্যত তৈরি হয়নি।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্টরা বলেন, সমবায় মেলা কেবল আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার আয়োজন হতে পারে না। এ ধরনের মেলার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা বাড়ানো, সমবায় সংগঠনগুলোর কার্যক্রম তুলে ধরা এবং তাদের উৎপাদিত পণ্য সম্পর্কে মানুষকে জানানো। মানুষ মেলায় আসবে, পণ্য দেখবে, সমবায় সম্পর্কে জানবে। অথচ উদ্বোধনের কয়েক মিনিটের মধ্যেই যদি মেলা শেষ হয়ে যায়, তাহলে এমন আয়োজনের উদ্দেশ্য কী?
এ বিষয়ে জেলা সমবায় কর্মকর্তা সালমান ইকবালের কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে তুচ্ছতাচ্ছিল্যপূর্ণ আচরণ করেন। মেলার সময়সূচি ও উদ্বোধনের পরপরই স্টল গুটিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। এসময়, সাংবাদিকরা বারবার এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তার অধীনস্থ এক কর্মকর্তাকে ডাক দিয়ে বলেন ‘সাংবাদিকদেরকে ৫০০ টাকা করে ধরায়ে দাও চলে যাবে’।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কাছে আমি জানতে চাইব এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করব।