সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪২ অপরাহ্ন

আ’লীগ দোসর সামাদ মুন্সীর প্রার্থীতা বাতিল চেয়ে দুই বিএনপি নেতার কাউন্সিল বয়কট

Reporter Name / ১৩৯ Time View
Update : শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৫

মো আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন বিএনপি’র কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক পদে সামাদ মুন্সীকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তার মনোনয়নপত্র বাতিলের দাবি জানিয়ে দুই বিএনপি নেতা ইউনিয়ন কাউন্সিল বয়কট করেছেন।

আজ দুপুরে তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির সহকারী নির্বাচন কমিশনার ইউপি চেয়ারম্যান জুনাব আলীর নিকট তাহিরপুর উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি হাজী সামছুল হক ও উপজেলার ১নং শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক ওয়ার্ড সভাপতি ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়নপত্র ক্রয় করেছেন মোঃ কামাল হোসেন।

হাজী শামসুল হক ও কামাল হোসেন অভিযোগ করেন, আব্দুস সামাদ মুন্সি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে আসছেন। তারা জানান, সামাদ মুন্সি তার ছোট ভাই আব্দুল কুদ্দুসকে শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বানানোর জন্য তৎকালীন সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হোসেন খানের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন। সামাদ ও তার ভাই আব্দুল কুদ্দুস এমপি রতনের নাম ভাঙিয়ে এলাকায় কোটি কোটি টাকা লুটপাট করেছেন।

এমপি রতন প্রায়ই সামাদের বাড়িতে মিটিং, খাওয়া-দাওয়া ও রাত্রিযাপন করতেন বলেও অভিযোগ করা হয়। সাবেক এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এর সাথে সামাদ মুন্সীর ছবি রয়েছে। সেটি ১৫ আগষ্টের।

আরো অভিযোগ করে বলা হয়, আব্দুল কুদ্দুস ২০২৩ সালের ১২ নভেম্বর নাশকতার একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলার ১নং সাক্ষী ছিলেন আব্দুল কুদ্দুস নিজেই। ওই মামলায় হাজী শামসুল হককে ১৪ নম্বর আসামী করা হয়েছিল। ঐ রাতে পুলিশ কলাগাঁও মাঝহাটির মোড় থেকে ককটেল ও বোমা ফুটিয়ে কলাগাঁও মুড় হইতে দুইজনকে গ্রেফতার করে। একই সাথে কামাল হোসেনকেও তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই মামলায় (নং- ১৭৩/২০২৪ইং (তাহিরপুর) বিএনপি’র নেতা কামরুজ্জামান কামরুল ও আনিসুল হক সহ ৩২ জনকে আসামী করা হয়। এই মিথ্যা মামলায় হাজী শামসুল হককে সাড়ে চার মাস পালিয়ে থাকতে হয়েছিল। একই সাথে সামাদ মুন্সি ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে ছবি ও ভিডিওসহ প্রমাণ আছে বলে দাবি করা হয়। তারা বলেন, তদন্ত করলেই বিষয়টির সত্যতা পাওয়া যাবে।

হাজী শামসুল হক বলেন, একজন আওয়ামী লীগের দোসর ও পেশীশক্তি ব্যবহারকারী নেতাকে বিএনপি-র মতো একটি দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান দেওয়া উচিত নয়। তারা আসন্ন নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে সামাদ মুন্সির মনোনয়ন পত্র বাতিল করার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছি।

মোঃ কামাল হোসেন বলেন, সামাদ মুন্সি বিগত ১৬ বছরে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করে এখন নির্বাচনে ভোট পাওয়ার জন্য লাখ লাখ টাকা বিলি করছেন। তারা তার মনোনয়ন বাতিলের করার জন্য আমরা নির্বাচন কমিশনারের কাছে আবেদন জানিয়েছি। আশা করছি এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দায়িত্বশীলরা দেখবেন।

এদিকে, তাহিরপুর উপজেলার ১নং শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন বি.এন.পির কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক পদে সামাদ মুন্সিকে আওয়ামী দোসর উল্লেখ করে তাঁর মনোনয়ন পত্রটি বাতিল করার জন্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন বিএনপির এই দুই নেতা।

আবেদনের অনুলিপি তাহিরপুর উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক এবং সদস্য সচিব, সিলেট বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, সিলেট বিভাগীয় বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সিলেট বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত ও স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হাসানকে দেওয়া হয়েছে।

শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা মো আলী হায়দার জানান, কামাল হোসেন এবং সামছুল হক জিয়াউর রহমান আমলের বিএনপি। তাদেরকে কাউন্সিলে মূল্যায়ন করা উচিত বলে আমি মনে করি।

তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইউপি চেয়ারম্যান মো জুনাব আলী জানান,শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে সামাদ মুন্সী মনোনয়নপত্র ক্রয় করায় একই পদে সামছুল হক ও মো কামাল হোসেন মনোনয়নপত্র ক্রয় করে সামাদ মুন্সী আওয়ামীলীগের দোসর বলে এই দুই নেতা তার মনোনয়নপত্র বাতিলের জন্য আগামী ২ সেপ্টেম্বর এর কাউন্সিল বয়কট করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা

সম্পাদকীয়

সম্পাদক ও প্রকাশক