মো, সোহরাব আলী, তেতুলিয়া পঞ্চগড় প্রতিনিধি : তেঁতুলিয়ায় দীর্ঘ ৮৬ দিন পর ৪ নং শালবাহান ইউপি চেয়ারম্যানের কর্মস্থলে যোগদান।
তেঁতুলিয়া উপজেলার ৪ নং শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম দীর্ঘ তিন মাসেরও বেশি সময় কারাভোগের পর পুনরায় নিজ কার্যালয়ে যোগদান করেছেন। গত ৫ ই মার্চ ২০২৬ তারিখে সকল মামলায় আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি নিজ এলাকায় ফিরে আসেন এবং দাপ্তরিক কাজ শুরু করেন।
গত বছরের ১৯শে ডিসেম্বর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলামকে তার নিজ বাসভবন থেকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে কারাগারে থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে আরও দুটি পিডব্লিউ (Production Warrant) মামলা দায়ের করা হলে আইনি জটিলতা আরও বাড়ে। দীর্ঘ ৮৬ দিন কারাভোগের পর অবশেষে সকল মামলায় জামিন পাওয়ায় তার কর্মস্থলে ফেরার পথ সুগম হয়।
আশরাফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী যুবলীগের রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে যুক্ত থাকলেও তার দাবি অনুযায়ী ৫ই আগস্ট পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তিনি নিয়মিত অফিস করে আসছিলেন। আটক হওয়ার আগ পর্যন্ত ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের সেবা ও দাপ্তরিক কর্মকাণ্ডে তার উপস্থিতি ছিল নিয়মিত। তিনি জানান, ইতিপূর্বে তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা ছিল না, কেবল রাজনৈতিক শিকার হয়েই তাকে কারাভোগ করতে হয়েছে। কারা ভোগের ৮৬ দিন পর আবারও চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করে তিনি জনগণের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে দীর্ঘ প্রায় তিন মাস ৪ নং শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে এক ধরনের স্থবিরতা বিরাজ করছিল। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় নাগরিক সনদ, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের নথিপত্রে স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল। তার যোগদানের ফলে ঝুলে থাকা ফাইলগুলো নিষ্পত্তির পথ প্রশস্ত হয়েছে এবং ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝেও কর্মতৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
কারামুক্তির পর নিজ কার্যালয়ে প্রথম কর্মদিবসে তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং পরিষদের সদস্যদের সাথে মতবিনিময় করেন। সেখানে তিনি জানান যে, সামনের দিনগুলোতে সকল ভেদাভেদ ভুলে ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করবেন। গত তিন মাসে সাধারণ মানুষের যে ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতে অতিরিক্ত সময় দিয়ে কাজ করার পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছেন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, নির্বাচিত প্রতিনিধির ফিরে আসায় এখন থেকে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের সেবা এবং ভিজিডি-ভিজিএফের মতো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কাজগুলো স্বচ্ছতার সাথে পরিচালিত হবে।
পঞ্চগড়ের সীমান্তঘেঁষা এই উপজেলার ৪নং শালবাহান ইউনিয়নে বর্তমানে এক ধরণের স্বস্তি ফিরে এসেছে। আইনি প্রক্রিয়া মোকাবিলা করে পুনরায় জনসেবায় ফিরে আসা এই জনপ্রতিনিধি কতটুকু সফলভাবে ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক কাজগুলো ত্বরান্বিত করতে পারেন, এখন সেটিই দেখার বিষয়।