মো আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কাঠইর ইউনিয়নের কলাইয়া গ্রামে প্রসাদ বিতরণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে পাঁচজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে কলাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশ থেকে শুরু হওয়া তর্ক-বিতর্ক পরে বাড়িঘরে হামলায় রূপ নেয়।
আহতরা হলেন, শিক্ষার্থী অনিক দাস (১৮), কিলটন দাস (২০), শংকর দাস (৩৫), সত্যা রানী দাস (৪০) ও বীণা রানী দাস (৪০)। এর মধ্যে অনিক ও কিলটনকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ঘটনার বিচার দাবিতে আহতদের পরিবার মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে গ্রামের বাসিন্দা বিষু দাস, রমজান মিয়া, সুশীল দাসসহ কয়েকজন বক্তব্য রাখেন। বক্তারা জানান, সোমবার রাতে মন্দিরে প্রসাদ বিতরণের সময় অনিক দাস ও বিশাল দাসের মধ্যে সামান্য তর্ক হয়। পরদিন বিকেলে বিদ্যালয়ের সামনে অনিক ও কিলটনকে তাড়া করেন অভিযুক্ত বিদ্যুৎ পাল বুলু (৪০) ও বিশাল পাল (১৮)। পরে তারা অনিক দাসের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরের দরজা–জানালা ভাঙচুর করেন।
স্থানীয়রা জানান, এলাকার সুবল পাল ও খোকন পালের বিরুদ্ধে সুদের ব্যবসা, মাদক ব্যবসাসহ অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্ত বিদ্যুৎ পাল বুলু ২০২০ সালে মাদকের মামলায় কারাবন্দি ছিলেন বলেও জানা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী আব্দুন নুর বলেন, আমাদের গ্রামে আগে এমন সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটেনি। সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।
সংগীতশিল্পী মানিক রঞ্জন তালুকদার জানান, অনিক ও ছোটনের পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, যেকোনো সময় পুনরায় হামলার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা দীপক দাস বলেন, হিন্দু–মুসলমান মিলেমিশে আমাদের গ্রাম। কিন্তু কিছু দাঙ্গাবাজ গ্রামের শান্তি নষ্ট করছে। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অভিযুক্ত বিশাল পালের বাবা সুবল পাল (৪৭) বলেন, ঘটনা যা হয়েছে, সেটা আইনেই দেখবে। আমাদের যা হয় হবে।
স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।