রোমান আহমেদ, জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ও আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে শুকানো হচ্ছে ধান ও খড়। এতে সংকুচিত হয়ে পড়েছে সড়কের অর্ধেক অংশ। যানবাহনসহ চলাচলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে চালকদের। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক যান চলাচল।
মেলান্দহ উপজেলার জামালপুর-মাদারগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের ভাবকী বাজার থেকে দাতভাঙ্গা সেতু পর্যন্ত ধান ও খড় শুকানো হচ্ছে। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন সড়কে চলছে এই কাজ। কেউ কেউ ধান মাড়াই করছেন সড়কের উপরেই। এতে যানবাহন চলাচলে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা বাড়ছে।
কৃষকেরা বলছেন, টানা বৃষ্টির পর হঠাৎ রোদের দেখা পাওয়ায় সড়কে ধান ও খড় শুকাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। সড়কে খড় শুকাতে দিলে তেমন কষ্ট করতে হয় না। প্রায় এক দিনেই খড় শুকানো হয়ে যায়। তাই সড়কের দুই পাশের বেশির ভাগ মানুষ সড়কে ধান ও খড় শুকাচ্ছে।
জানা যায়, জামালপুর-মাদারগঞ্জ মহাসড়কটি অন্যতম ব্যস্ত সড়ক। মাদারগঞ্জ উপজেলা ও মেলান্দহ উপজেলার দক্ষিণ অঞ্চলের কয়েকটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার লোকজন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। এছাড়া রংপুর বিভাগের কিছু লোকজনের চলাচল করে এই সড়কে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাবকী বাজার থেকে দাতভাঙ্গা সেতু পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপরে বিভিন্ন জায়গায় বোরো চাষিরা মাঠ থেকে ধান কেটে রাস্তায় রাখছেন। আবার ইট, পাটকেল দিয়ে সেখানেই যন্ত্র দিয়ে ধান মাড়াই করে খড় রাস্তায় বিছিয়ে শুকাচ্ছেন। কাজের জন্য কৃষক ও গৃহবধূরা সড়কের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকছেন। ওই সব খড়ের ওপর দিয়ে আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করছে বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কারসহ অটোরিকশা, অটো ভ্যান, সাইকেল ও মোটরসাইকেল। এতে দূর্ঘটনার শিকারও হচ্ছেন কেও কেও। দূর্ঘটনার স্বীকার হবে জানা সত্ত্বেও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যানবাহন চালকদের।
মোটরসাইকেল চালক রাশেদুল ইসলাম বলেন, সড়কে খড় থাকার কারণে মোটরসাইকেলটি স্লিপ করে। এতে ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা। রাস্তার দুই পাশে ধান ও খড় শুকানো হচ্ছে। এতে সড়ক ছোট হয়ে গেছে। এ সড়কে দ্রুত গতিতে অটোরিকশা, সিএনজি, ট্রাকসহ বড় বড় যান চলাচল করে। ধান ও খড়ের ওপরে মোটরসাইকেলের চাকা পিছলে যায় এতে যে কোনো সময়ের বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
মহাসড়কের ওপর ধান শুকানোর কাজে ব্যস্ত ছিলেন শিহাটা গ্রামের গৃহবধূ নাছিমা খাতুন। তিনি বলেন, রাস্তার ধারে আমাদের বাড়ি। বাড়িতে অইরকম ধান শুকানের জায়গাও নাই। বৃষ্টি হয়ে খেতে পানি আটকিছে। তাই রাস্তায় শুকাতে দিছি।
এ বিষয়ে মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, এটি জানা ছিলো, বিষয়টি যেহেতু জানলাম। কেও যদি এরকম করে থাকে প্রাথমিকভাবে আমরা তাদেরকে সতর্ক করবো। নাহলে আইনত যে ব্যবস্থা নেয়া যায় সেটিই করবো।
মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম আলমগীর বলেন, রাস্তায় যারা ধান-খড় শুকানোর কাজ করছে তাদের সাথে কথা বলবো। এবিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।