আতাউর রহমান, রাজিবপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের রাজিবপুরে স্কুল ফিডিং এ চলছে ব্যাপক অনিয়ম। মানা হচ্ছে না রুটিন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানে না শিক্ষা অফিসার। শিক্ষার্থী ঠিকমত পাচ্ছে না স্কুল ফিডিং। সব মিলে জগা খিচুরি অবস্থা। বিষয়টি নবাগত কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে।
জানাগেছে, সারা দেশে স্কুল ফিডিং শুরু হয়েছে ১৭ নভেম্বর থেকে। অথচ জেলার চর রাজিবপুরে শুরু হয়েছে ২ দিন পর থেকে। গত ৪ কর্ম দিবসে শিক্ষার্থীরা পায়নি রুটিন অনুযায়ী স্কুল ফিডিং। অভিযোগ পেয়ে বৃহস্পতিবার কয়েকটি বিদ্যালয়ে সরে জমিনে গিয়ে সত্যতা পাওয়া গেছে। কোন বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং দেয়া হয়নি। রাজিবপুর সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুরুতজ্জামান ও সহকারী শিক্ষক সাবিনা জানান, গত ৪ দিন রুটিন অনুযায়ী দেয়া হয়নি শিশুদের খাবার। বৃৃহস্পতিবার কোন ফিডিং পায়নি শিক্ষার্থীরা।
রুটিন অনুযায়ী দেখাগেছে, প্রতি শিক্ষার্থী সপ্তাহে ৩দিন পাবে ১২০গ্রাম বনরুটি ও ১টি করে সিদ্ধ ডিম। ১দিন পাবে বনরুটি ও ইউএইচটি দুধ। আর ১দিন পাবে ফর্টিফাইড বিস্কুট ও দেশীয় ফল কলা।
অথচ শিক্ষার্থীরা প্রথম ২ দিন পেয়েছে ২টি করে পাউরুটি, ১দিন পেয়েছে শুধু ১টি আধা পাকা কলা আর ১দিন পেয়েছে শুধু ১টি সিদ্ধ ডিম। বৃহ্সপতিবার দেওয়া হয়নি।
এতে প্রতিটি স্কুলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষকের মাঝে চলছে চরম ক্ষোভ।
শিক্ষা অফিস সুত্রে জানাগেছে, চর রাজিবপুর উপজেলায় ৫৭ টি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৯ হাজার ৭৪৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় আড়াই হাজার রয়েছে প্রাক শ্রেণির। যাদের দুপুর ১২টার মধ্যে ছুটি হয়ে যায়।
অভিযোগে আরও জানাগেছে, স্কুল ফিডিং যা দেয় তাও সঠিক সময়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে পারেনা। ফলে অধিকাংশ প্রাক শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ফিডিং এর জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় অথবা অনেকই ফিডিং না নিয়েই খালি হাতে চলে যেতে বাধ্য হয়।
বালিয়ামারী বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুরভি, মীম ও চায়না জানান স্কুল ফিডিং এর অনিয়মের কথা।
রাজিবপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু এনাছ জানান, ঠিকাদার স্থানীয় না হওয়ায় স্কুল ফিডিং এর এই দূরাবস্থা।
এ ব্যাপারে রাজিবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন জানান, কে বা কারা ঠিকাদার আমি জানতাম না। তবে বুধবার একজন আমার সাথে দেখা করেছিল। বিভিন্ন অনিয়মের কথা প্রধান শিক্ষকগণ অভিযোগ করেছে। আমি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।