মো আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জ শহরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ছিনতাইয়ের সময় ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছে এক কিশোর চালক।
আহত ঝনিক দাস (১৪) বর্তমানে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বৃহস্পতিবার ৮ জানুয়ারি বিকেল ৩টার দিকে শহরের পশ্চিম হাজীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ঝনিক দাস সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের হরিনগর গ্রামের জিতেন দাস ও আরতী দাসের ছেলে। বর্তমানে সে শহরের বাঁধনপাড়া এলাকায় পরিবারসহ ভাড়া বাসায় বসবাস করছিল। ছিনতাইকারীরা তার অটোরিকশা ও দিনের উপার্জিত প্রায় ৭০০ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষ বিবরণে জানা যায়, দুপুরে শহরের আলফাত স্কয়ার এলাকা থেকে দুইজন যাত্রী নিয়ে পশ্চিম হাজীপাড়ায় যান ঝনিক। সেখানে পৌঁছে যাত্রীরা বাড়ি থেকে একটি বস্তা আনার কথা বলে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলেন এবং পরে আবার আলফাত স্কয়ারে যাওয়ার কথা জানান। কিছু সময় পর ওই যাত্রীরা ছুরি দেখিয়ে ঝনিকের কাছে থাকা সব টাকা দাবি করে। প্রাণভয়ে ঝনিক তার উপার্জিত টাকা তাদের দিয়ে দেন এবং তাকে হত্যা না করার অনুরোধ করেন।
তবে ছিনতাইকারীরা আরও কিছু আছে কি না জানতে চাইলে ঝনিক ‘না’ বললে তারা তার গলায় ছুরিকাঘাত করে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায়। পাশের একটি দোকানের এক ব্যক্তি আহত অবস্থায় ঝনিককে উদ্ধার করে শহরের বাঁধনপাড়ায় তার বাসায় পৌঁছে দেন। পরে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঝনিকের বড় ভাই যীশু দাস জানান, গলায় গুরুতর আঘাতের কারণে তার অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা নেই। এলাকায় নতুন হওয়ায় ঝনিক কাউকে চিনত না।
প্রতিবেশী দীপক চক্রবর্তী ও প্রতিমা চক্রবর্তী জানান, সদর হাসপাতালে ভর্তি করার পর ঝনিকের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল এবং সে ঠিকভাবে কথা বলতে পারছিল না। দরিদ্র পরিবারটির পক্ষে চিকিৎসা ব্যয় বহন করা কঠিন উল্লেখ করে তারা ঝনিকের চিকিৎসায় সহায়তার জন্য সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।
সুনামগঞ্জ সদর থানার (ওসি) রতন শেখ জানান, ঘটনাটি মৌখিকভাবে পুলিশকে জানানো হয়েছে। এখনো মামলা হয়নি, তবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।