মো আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জে ইদানিং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক বেশ কয়েকটি ফেইক (ভূয়া) আইডি খুলে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। মানহানীকর অপপ্রচারে এমন হয়েছে যে, ভুক্তভোগীরা রীতিমতো অসহায় বোধ করছেন। যে কারণে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের আরএমও ডাঃ রফিকুল ইসলাম সহ উপজেলার স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার কর্মীরা অনেকটাই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন। এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন শ্রেনী পেশার লোকজনের পাশাপাশি স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকার প্রতিনিধিও থানায় সাধারন ডায়রি করেছেন। এ সব অপ-প্রচারকারি নিকৃষ্ট ব্যক্তিদের ফেইক আইডি সনাক্তের পর সাইবার ট্রাইবুনালে মামলার প্রস্ততি চলছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, বিগত প্রায় জুলাই-আগষ্টের পর জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক, আরএমও,ৎবর্হি-বিভাগের চিকিৎসক সহ স্থানীয় গনমাধ্যমকর্মী ও গন্যমান্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ‘এমডি আকাশ, ঝুমন সহ একাধিক ফেইসবুক ভূয়া (ফেইক) আইডিতে ডাঃ রফিকুল ইসলাম আরএমও পদে চাকুরি করে দূর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। দূর্নীতির ভিডিও তথ্য প্রমাণ আছে বলে পরবর্তী পোস্টে পোস্ট করা হবে বলেও হুমকি দিচ্ছেন ফেইক (ভূয়া) আইডিতে।
অসৎ উদ্দেশ্যে নানা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। ওই সকল আইডি থেকে মিথ্যা-ভিত্তিহীন, কুরুচিপূর্ণ, অপমানজনক ও মানহানিকর তথ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। এ সব অপ-প্রচারের কারণে চিকিৎসক, বিভিন্ন শ্রেণী পেশার উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা সহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছেন। ইতিমধ্যে ফেইক আইডি’র বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে বেশ কয়েকটি সাধারন ডায়রি করা হয়েছে। থানা পুলিশ বলছে, এসব আইডি সনাক্ত করতে আইন-শৃংখলা বাহিনী গোয়েন্দা শাখার (সিআইডি) স্পেশাল ব্রাঞ্চের (আইটি শাখা) কাজ করছে। সময় বেশী লাগলেও এসব ফেইক আইডি সনাক্ত করা যাবে।
সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডাঃ জসিম উদ্দিন বলেন, বেশ কয়েকটি ভূয়া আইডি থেকে কুরুচিপূর্ণ ও মিথ্যা বানোয়াট তথ্য প্রচার করছে। একটি সিন্ডিকেট চক্র তাদের স্বার্থ হাসিল না হওয়ার কারণে ফেইক আইডি সামাজিক অস্তুুষ সৃষ্টি করতে পারে, এটাকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়রি করা হলেও সংশ্লিষ্ট আইডি সনাক্ত করা যাচ্ছে না। এ সব অপপ্রচারকারি নিকৃষ্ট ব্যক্তিদের ফেইক আইডি সনাক্ত হলেই সাইবার ট্রাইবুনালে মামলা করা যাবে।
ডেন্টাল সার্জন ডাঃ অসীত কুমার রায় বলেন, এমডি আকাশ, ঝুমন নামক ফেইক আইডিতে দেখলাম সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের আরএমও সহ বিভিন্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বাজে মন্তব্য করছে। এ বিষয়ে অপ-প্রচারকারিদের সনাক্ত কিংবা তাদেরকে গ্রেপ্তার করতে না পরার বিষয়টি দুঃখজনক।
ডা. জহর লাল শিপলু বলেন, বেশ কয়েকদিন ধরেই ‘বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে পোস্ট দিচ্ছেন তাদের নামে কুৎসা রটানো হচ্ছে ভূয়া আইডি দিয়ে।এরপরও যদি এসবের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেয়া হয় তাহলে এটি স্পষ্টত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বে অবহেলা। একাধিক ফেইসবুক আইডিতে কে বা কারা বিভিন্ন ছবি ব্যবহার করে মিথ্যা, বানোয়াট ও অপমানজনক বক্তব্য দিয়ে পোস্ট করছে। এসব আইডি ত্রুত সনাক্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া জরুরী হয়ে পড়েছে।
ভোক্তভোগী আরএমও ডাঃ রফিকুল ইসলাম বলেন,বেশ কয়েক মাস ধরেই’ আমার হাসপাতালের বেশ কয়েকজন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে একাধিক ফেইসবুক আইডিতে কে বা কারা ছবি ব্যবহার করে মিথ্যা, বানোয়াট ও অপমানজনক তথ্য পোস্ট করছে। ইদানিং এমডি আকাশ এবং ঝুমন নামক ভুয়া ফেইক আইডিতে আমার বিরুদ্ধে বাজে মন্তব্য করছে। এ সব আইডি ত্রুত সনাক্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া জরুরী হয়ে পড়েছে।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আবুল কালাম সাধারণ ডায়রির বিষয়ে বলেন, ফেইক আইডি’র বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। আইডি সনাক্ত করা হলেই পুলিশ দ্রুত সময়ের মধ্যে দুষ্কৃতকারীকে আইনের আওতায় আনা অনেকটাই সহজ হবে।