সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার পাটলাই নদীতে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দোসর রতন বাহিনীর বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে উত্তর-শ্রীপুর ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা দিলোয়ার হোসেন তালুকদার, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌস আলম আখঞ্জি, ইমলাক হোসেন, জিয়াউর রহমান, কবির হোসেন জানান, পাটলাই ঘাটের শেয়ার নিতে মত প্রকাশ করলে ইজারাদার রতন মিয়া আমাদেরকে ৬ আনা শেয়ার ৮৪ লাখ টাকা সাব্যস্থে প্রথম ১৮ লাখ টাকা দিয়ে শেয়ার গ্রহণ করি এবং মিলে মিলে ব্যবসা করার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার মতামত দেন। পরবর্তীতে ছয়আনা শেয়ারের পুরো টাকাই দিয়েছি ইজারাদার রতন মিয়ার কাছে। কিন্তু শেয়ারের ৬৬ লাখ টাকা নিয়ে রতন মিয়া অঙ্গীকার করেন। গত ২৭/৬/২৫ শনিবার সন্ধ্যায় আমরা কামালপুর পাটলাই নদী ঘাটে গিয়ে ম্যানেজার লোকমান হোসেন ও অনিক মিয়া কর্তৃক তিনদিনের টোল আদায়ের তিনলাখ ৫১ হাজার ৬০০ টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে ম্যানেজারদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘাট থেকে উচ্ছেদ করে অবৈধভাবে জোরপূর্বক ঘাটের দখল নিয়েছি বলে আমাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন যা সম্পূণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। বিগত দুই বছর ধরে রতন মিয়া যাদুকাটা (১) যাদুকাটা (২) এবং আবুয়া, রক্তি, পাটলাই, দূর্লভপুর, সুরমা বিআইডব্লিউটিএ ক্ষমতার দাপটে সিন্ডিকেট দ্বারা ভোগ করে গেছেন। এ বছর তিনি ইজারা না পেয়ে বর্তমান সর্বোচ্চ দরদাতা ইজারাদার ফারুক এন্ড ব্রাদার্সের নিয়োগকৃত লোকজনদেরকে কালেকশন করতে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি সহ স্থানে স্থানে তার লোকজন দিয়ে বেপরোয়া চাঁদাবাজি করাচ্ছেন। এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে আমরা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হবো। গত ২৪-২৫ অর্থ বছরের কালেকশন চলাকালীন সময়ে রতন মিয়া কালেকশনের উত্তোলিত টাকা থেকে তিনি প্রতিদিন বিবিধ বাবদ নগদ দশ হাজার টাকা নিতেন। এবিষয়কে কেন্দ্র করেই শেয়ার হোল্ডারদের মধ্যে বিবেদ সৃষ্টি হয়। উনি আমাদের ৬ আনা শেয়ারের টাকা আত্মসাৎ করে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে আত্মসাৎতের গুজব ছড়াচ্ছেন। এই অপপ্রচারকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টন্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।
ইজারাদারের পক্ষে ঘাটের ম্যানেজার আল আমিন, সিজিল মিয়া, কয়লা ও পাথর পরিবহনকারী প্রতিটি ভলগেট নৌকা হতে সরকার নির্ধারিত ৩৪.৫০ পয়সা হারে টোল আদায় করছেন।
কিন্ত ২০২৪ সালের ৫ ই আগষ্ট আওয়ামীলীগ সরকারের পতন হওয়ার পরও ফ্যাসিস্ট নেতা
বিআইডব্লিউটিএ এবং যাদুকাটা নদীর সাবেক ইজারাদার রতন বাহিনীর লোকজন বিআইডব্লিউটিআইএ ঘাট,শ্রীপুর নৌকা ঘাট, ডাম্পের বাজার নৌকা ঘাটে নৌযান থেকে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে।
এ বছর রতন মিয়া সিন্ডিকেট বিআইডব্লিউটিএ ও যাদুকাটা বালু মহাল সরকার থেকে ইজারা না পাওয়ায় নতুন ইজারাদার আল-ফারুক এর শেয়ার পার্টনার উত্তর-শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা দিলোয়ার হোসেন তালুকদার, জিয়াউর রহমান আখঞ্জী, ইসলাম হোসেন আখঞ্জী ও কবির হোসেন এর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন রতন বাহিনীর জেনারেল ম্যানেজার লোকমান হোসেন, অনিক মিয়া গংরা।
সাবেক ইজারাদার রতন মিয়ার বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৬ আনার শেয়ার ছিল দিলোয়ার হোসেন তালুকদার গংদের। এভাবে চলতে থাকে ঘাটে টোল আদায়ের কার্যক্রম। কিন্ত গত ২৮ জুন দিলোয়ার হোসেন তালুকদার, জিয়াউর রহমান আখঞ্জী, ইসলাম হোসেন আখঞ্জী ও কবির হোসেন গত ২৬ জুন থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত তিনদিনের টোল আদায়ের কালেকশনের তিনলাখ ৫১ হাজার ৬০০ শত টাকা জমা রাখেন। রতন মিয়ার সাথে চুড়ান্ত হিসেবের পর ওই টাকা বন্টন হবে।মেসার্স সোহাগ এন্টাইপ্রাইজের মেয়াদ ১ জুলাই শেষ হওয়ার পর রতনের নিয়োগকৃত ম্যানেজার লোকমান হোসেন ও সহকারী ম্যানেজার অনিক মিয়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাটের দখল ছেড়ে যাওয়ার পর পরেই নতুন ইজারাদার মেসার্স ফারুক এন্ড ব্রাদার্স এর লোকজন কালেকশন করছেন।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ফ্যাসিস্ট নেতা রতন মিয়া যাদুকাটা, মাহরাম, পাটলাই,রক্তি নদী, আবুয়া নদী, শ্রীপুর নৌকা ঘাট, ডাম্পের বাজার নৌকা ঘাট প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ে গত দুই বছর যাবৎ ভোগ করেছেন। এখন আবার বিএনপি নেতা পরিচয় দিয়ে নদীতে তার লোকজন বেপরোয়া চাঁদাবাজি করছে। ফারুক এন্ড ব্রাদার্স এর নিয়োগকৃত লোকজন কয়লা ও চুনাপাথর সহ বিভিন্ন পণ্যবাহী নৌকা থেকে পরিবহনতকৃত ছোটবড় প্রতি ভলগেট নৌকা থেকে যেখানে ৩৪.৫০ পয়সা হারে টোল আদায় করছে। কিন্তু অথিতে সেখানে মেসার্স সোহাগ এন্টারপ্রাইজের লোকজন বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে প্রতিটি ভলগেট নৌকা থেকে প্রতিটনে প্রায় দিগুন ৫০.৫০ পয়সা হারে চাদাঁ আদায় করেছিলেন।
এ ব্যাপারে ফ্যাসিস্ট নেতা মোঃ রতন মিয়া জানান, বিএনপি নামধারী কিছু সংখ্যক লোকজন কালেকশনের টাকা আত্মসাৎ করে বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে আমার লোকজনকে তাড়িয়ে দিয়েছে।
মেসার্স ফারুক এন্ড ব্রাদার্সের সত্ত্বাধিকারী আল ফারুক জানান, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয় থেকে এক বছরের জন্য তিন কোটি পচাত্তর লক্ষ টাকায় ইজারা গ্রহন করেছি। আমার নিয়োগকৃত লোকজন নৌযান থেকে সরকার নিধারিত ৩৪.৫০ পয়সা হারে আদায় করছে।
এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএ’র সিলেট-সুনামগঞ্জ অঞ্চলের উপ-পরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেন,আমার জানা মতে মেসার্স ফারুক এন্ড ব্রাদার্সের লোকজন ঘাটে কালেকশন করছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তাহিরপুর উপজেলা নিবাহী অফিসার মো আবুল হাসেম জানান, মেসার্স সোহাগ এন্টারপ্রাইজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন ইজারাদার ঘাটের দখলে আছেন।