মো আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : আসন্ন দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে রাজনৈতিক ও সামাজিক সমীকরণে বইছে নতুন হাওয়া। বিশেষ করে চেয়ারম্যান পদে হারুনুর রশীদ লড়বেন শুনে জনমনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন রাজপথের লড়াকু সৈনিক ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাবেক জেলা বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রদলের সভাপতি মো হারুনুর রশীদ। তরুণ এই সমাজসেবকের প্রার্থিতার খবর প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ও হাট-বাজার থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে নিয়ে চলছে ব্যাপক বিশ্লেষণ।
দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের জিয়াপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মো হারুনুর রশীদ। তার পিতা মরহুম আব্দুল হান্নান সাহেব ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও শালিশী ব্যক্তিত্ব। পারিবারিক ঐতিহ্য অনুযায়ী ছোটবেলা থেকেই তিনি সাধারণ মানুষের সেবা ও কল্যাণের সাথে জড়িত। স্থানীয় ভোটারদের মতে, হারুনুর রশীদ কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, বরং একজন নম্র, ভদ্র ও পরোপকারী মানুষ হিসেবে দীর্ঘ সময় ধরে সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়িয়েছেন।
এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, মো হারুনুর রশীদের বড় শক্তি হলো তার স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সাথে তার নিবিড় সম্পর্ক। বিগত বছরগুলোতে উপজেলার বিভিন্ন দুর্যোগে এবং অসহায় মানুষের প্রয়োজনে তিনি নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। ভোটারদের একটি বড় অংশের মতে: কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও তরুণদের উন্নয়নে তার বলিষ্ঠ অবস্থান তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করছে। কোনো প্রকার বির্তকে না জড়িয়ে জনগণের আস্থায় আসাই তার জনপ্রিয়তার মূল চাবিকাঠি সুরমাসহ উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নেই তার রয়েছে ব্যক্তিগত ভোট ব্যাংক।
বিজয়ী হলে অগ্রাধিকার দেবেন যেসব কাজে নির্বাচনী ময়দানে নিজের লক্ষ্য নিয়ে হারুনুর রশীদ বলেন, বিগত সরকার আমলে ২০১৪ সালে চিংড়ি মাছ এবং ২০১৯ সালে মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে আমি দুটি নির্বাচন করেছি। এদিকে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ২০২২ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেই। পরে ২০২৩ সালের উপ-নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। পাশাপাশি আমি সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি থেকে এল,এল,বি পাশ করি। আইন পেশায় নিজেকে নিয়োজিত না রেখে জনগণের সেবক হয়ে আছি। আমি কোনো ব্যক্তিগত লাভের জন্য নয়, বরং সারাজীবন সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই। জনগণের ভালোবাসাই আমার পথচলার মূল শক্তি। যদি মহান আল্লাহ আমায় সুযোগ দেন, তবে আমি অবহেলিত দূর্গম উপজেলাকে একটি আধুনিক, মাদকমুক্ত এবং দুর্নীতিমুক্ত জনবান্ধব উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলব। শিক্ষা ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া উপজেলাকে এগিয়ে নেওয়ার প্রাণন্তকর চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেয়াই হবে আমার প্রধান কাজ। পরিশেষে দোয়ারাবাজার উপজেলার সর্বস্তরের ভোটার ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার জনসাধারণকে জানাই পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারে তরুণ ও নতুন ভোটাররা। সেই হিসেবে হারুনুর রশীদ তার পরিচ্ছন্ন ইমেজ ও আধুনিক চিন্তাধারার কারণে অন্যান্য প্রার্থীদের তুলনায় কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। সুরমা ইউনিয়নসহ পুরো উপজেলার সাধারণ মানুষ মনে করছেন, চেয়ারম্যান পদে তিনি এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় ‘চমক’ হতে পারেন।