শিরোনাম :
সাংবাদিক সাখাওয়াত হাফিজের ওপর হামলার প্রতিবাদে কুমিল্লায় মানববন্ধন টেকনাফে রাসেল নামক এক যুবকের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার করে মুক্তির দাবিতে এলাকাবাসী  হাওরে কৃষকদের সুরক্ষায় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে সরকারের সহায়তা চাইলেন এমপি কামরুজ্জামান কামরুল পঞ্চগড়ে এআই দিয়ে কলেজ শিক্ষার্থীর অশ্লীল ছবি বিকৃত করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় মানববন্ধন   বিষ ফসল দিয়ে নষ্ট করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা  পঞ্চগড় হাটবাজারে গম ৪০ কেজি স্থলে ৪৬ কেজিতে মণে বিক্রি ইউপি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন, উঠছে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগ পূর্ব ও পশ্চিম বিধানসভার বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে অমিত শাহ’র রোড শো  তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সায়ন্তিকা ব্যানার্জির সমর্থনে প্রচারে অভিনেতা দেব বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে ২৪ হাজার ইউএস ডলারসহ ভারতীয় নাগরিক আটক
বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন

পূর্ব-ইব্রাহীমপুর গ্রাম নদী ভাঙনের কবলে ঘর-বাড়ি ও রাস্তা বিলীন

Reporter Name / ১৯৮ Time View
Update : শনিবার, ৩ মে, ২০২৫

মো আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের পূর্বইব্রাহীমপুর গ্রাম সুরমা নদীর ভাঙনে পড়ে একাধিক ঘরবাড়ি ও অর্ধ শতাধিক গাছপালা বিলীন হয়েছে। বর্তমানে যাতায়াতের সড়কও নদীতে বিলীন হয়েছে নদীগর্ভে। দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে এই ভাঙন দেখা দিয়েছে। এই নদী ভাঙন রোধে সুনামগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ড একাধিকবার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু প্রতিকার হচ্ছে না।

স্থানীয়রা জানান, পূর্বইব্রাহীমপুর গ্রামে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে প্রায় ২০ বছর আগে। চলমান ভাঙন রোধে ২০১১ সালের নভেম্বর মাসে পুরো ভাঙন এলাকায় ব্লক স্থাপন করা হয়েছিল। এর দুই বছর পর পুনরায় ভাঙন শুরু হয়। এই ভাঙনের কবলে পড়ে ঘরবাড়ি, গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একই সাথে গ্রামের আব্দুর রূপান, আলী জাহান ও রহিম হোসেনের বাড়ির অংশ এবং বাড়ির সামনের যোগাযোগ রাস্তা নদীতে বিলীন হয়েছে।

একাধিক বাসিন্দা জানান, গ্রামের রাস্তা বিলীন হওয়ার কারণে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী, শিশু শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ, রোগী, মহিলা, চাকুরিজীবী, মসজিদে আগত মুসল্লিসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজন মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছেন। কবরস্থান রয়েছে ঝুঁকির মুখে।

তারা জানান, নদীর তীরে গাজী রহমানের বাড়ি বিলীন হওয়ার পর ফারুক মিয়ার বাড়ি বিলীন হয়েছে, নদীতে বিলীন হয়েছে আব্দুল মুতলিব ও মুসলিম উদ্দিনের বাড়ির বিশেষ অংশ।

স্থানীয়রা আরও জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে নদী ভাঙনের বিষয়ে জানানো হয়েছে। ভাঙন রোধে কিছু বস্তা ফেললেও কাজ হয়নি, থামেনি ভাঙন। এখন নদীতে বিলীন হয়েছে যোগাযোগ রাস্তা। এই রাস্তা বিলীন হওয়ায় ধীরে ধীরে গ্রাম দুই ভাগে বিভক্ত হতে চলেছে।

পূর্ব ইব্রাহীমপুর গ্রামের বাসিন্দা কমর উদ্দিন বলেন, আমার বাড়ির সামনে অন্তত আড়াই শত ফুট প্রশস্ত নদীর চর ছিল। সবই ভেঙে আমাদের বাড়িও চলে গেছে নদীগর্ভে।

একই গ্রামের বাসিন্দা আলী জাহান, শুকুর আলী, রহিম হোসেন বলেন, আমাদের বাড়ির অংশ প্রায় ৫০ ফুট ও বাড়ির সামনের রাস্তা ও অসংখ্য গাছপালা নদীতে বিলীন হয়েছে। এখন কবরস্থান বিলীন হতে চলেছে। তবে ২/১ বছর আগে এখানে নদী ভাঙন রোধে কিছু বস্তা ফেলা হয়েছিল। তবুও ভাঙন প্রতিরোধ হয়নি।

জিয়াউল হক বলেন, চলাচলের পাকা সড়কসহ প্রায় দেড়শত ফুট নদীর তীর ও বাড়ির জায়গা নদীতে ভেঙে পড়েছে। এখন আমরা ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছি।

গাজী রহমান বলেন, আমার বাড়ি পুরোটা নদীতে বিলীন হয়েছে। এখন আমি আলাদা বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছি। আমার আশপাশের অনেকের বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

পূর্ব ইব্রাহীমপুর গ্রামের বাসিন্দা ও সুরমা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর আগে থেকে ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়েছে গ্রাম। কিন্তু নদী ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিলেও ভাঙন রোধ হচ্ছে না। পূর্ব ইব্রাহীমপুর গ্রামের পূর্ব অংশের বাসিন্দারা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। যদি যোগাযোগ রাস্তা রক্ষা না হয়, তবে গ্রাম দুই অংশে বিভক্ত হয়ে যাবে। এপাড়া ওপাড়ার সাথে নৌকায় যোগাযোগ করতে হবে। এ বিষয়ে সোমবার সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে ভাঙনের প্রতিকার চেয়ে আবেদন দিয়েছি।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, মইনপুর, জগন্নাথপুর ও পূর্ব ইব্রাহীপুর গ্রামের নদী ভাঙন রোধে আগামীতে বরাদ্দ আসলে কাজ হবে। পূর্ব ইব্রাহীমপুর গ্রামের নদী ভাঙন রোধে আপাতত জরুরি কোনো বরাদ্দ নেই। বরাদ্দ আসলে কাজ হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা

সম্পাদকীয়

সম্পাদক ও প্রকাশক