তৌফিকুর রহমান তাহের : বৈশাখী মেঘের ঘনঘটা হাওরপাড়ের কৃষকের চোখে আজ স্বপ্নের বদলে কেবলই ধ্বংসের প্রতিচ্ছবি। ঘাম ঝরানো ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগমুহূর্তে প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ কৃষাণ-কৃষাণীর মনে জাগিয়ে তুলছে এক চরম উৎকণ্ঠা।
বৈশাখ মানেই যেখানে উৎসবের আমেজ থাকার কথা, সেখানে সুনামগঞ্জের দিরাই-শাল্লাসহ পুরো হাওরজুড়ে এখন কেবলই হাহাকার আর শঙ্কা। আকাশে এক চিলতে কালো মেঘ দেখা দিলেই আঁতকে উঠছেন হাওরপাড়ের কয়েক লাখ কৃষক। সারা বছরের একমাত্র সম্বল সোনালী ধান তলিয়ে যাওয়ার ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটছে কৃষাণ-কৃষাণীর।
হাওরবাসীর জীবন এখন যেন প্রকৃতির সাথে এক অসম লড়াই। উজান থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢল আর বাঁধ ভাঙার ভয়ে প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে চরম দুশ্চিন্তায়। অনেক জায়গায় আধপাকা ধান কেটে ঘরে তোলার তাড়াহুড়ো চললেও শ্রমিকের অভাব আর অকাল বৃষ্টির কারণে কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও গভীর হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ফসল ডুবে যাওয়া মানে শুধু খাবার হারানো নয়, বরং ঋণের বোঝা আর আগামী এক বছরের অনিশ্চয়তার মুখে পড়া। দিরাই-শাল্লার প্রতিটি ঘরে ঘরে এখন একটাই প্রার্থনা— আর যাই হোক, যেন কষ্টের ফসলটুকু গোলায় তোলা যায়।
হাওরের এই দুঃখ-দুর্দশা আর কৃষকের আহাজারি আজ আকাশ-বাতাস ভারি করে তুলছে। দেখার বিষয়, প্রকৃতির এই বৈরিতার মাঝে কতটুকু রক্ষা পায় হাওরের প্রাণ— এই সোনালী ফসল।