মোঃ ইয়াছিন মিয়া, কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লায় বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হয়েছে প্রযুক্তি শিক্ষাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘এক্সপার্ট আইটি পার্ক’-এর ৩য় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।
শনিবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লা নগরীর প্রাণকেন্দ্র কান্দিরপাড়ের গ্রান্ড দেশপ্রিয় রেস্টুরেন্টের হলরুমে অনুষ্ঠিত হয় দিনব্যাপী এ আয়োজন। অনুষ্ঠানে ছিলো আলোচনা সভা, অতিথিদের বক্তব্য, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সনদ বিতরণ পর্ব।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইবনে তাইমিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শফিকুল আলম হেলাল।
তিনি বলেন, “এই প্রজন্মের জন্য আইটি শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। এক্সপার্ট আইটি পার্ক যেভাবে যুবসমাজকে দক্ষ করে তুলছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উৎবাতুল বারী আবু, সহকারী কমিশনার নওরোজ কোরেশী দীপ্ত, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কুমিল্লা মহানগর শাখার সহকারী সম্পাদক কামরুজ্জামান সোহেল এবং নিউজ টোয়েন্টিফোর টেলিভিশনের কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি এইচ এম মহিউদ্দিন।
তারা প্রত্যেকেই প্রযুক্তিনির্ভর এই যুগে আইটি শিক্ষার প্রসারে এক্সপার্ট আইটি পার্কের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটির পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে এক্সপার্ট আইটি পার্কে বিভিন্ন আইটি কোর্স সম্পন্নকারী ৪০০ শিক্ষার্থীর মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণ করেন আমন্ত্রিত অতিথিরা।
সনদ পেয়ে শিক্ষার্থীরা ছিলেন দারুণ উচ্ছ্বসিত ও অনুপ্রাণিত।
শিক্ষার্থীদের একজন, মো. রায়হান আহমেদ বলেন, “আমি ওয়েব ডিজাইন কোর্সটি করেছি। এখান থেকে শিখেই এখন ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেছি। আমাদের মতো তরুণদের জন্য এক্সপার্ট আইটি পার্ক একটি দারুণ প্ল্যাটফর্ম।”
স্থানীয় পর্যায়ে তরুণদের প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে এক্সপার্ট আইটি পার্ক ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে শত শত শিক্ষার্থী এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আইটি পেশায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছেন।
এক্সপার্ট আইটি পার্কের পরিচালক ওমর ফারুক বলেন,>“আমাদের লক্ষ্য—কুমিল্লার প্রতিটি শিক্ষার্থীকে প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলা, যাতে তারা দেশ ও দেশের বাইরেও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে।”
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতে আরও আধুনিক কোর্স, অনলাইন শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম, ইন্ডাস্ট্রি কানেকশন এবং ইন্টার্নশিপ সুবিধা চালু করা হবে। এ ছাড়া গ্রামাঞ্চলের তরুণদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
বর্ণাঢ্য এ আয়োজনে কুমিল্লার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, গণ্যমান্য ব্যক্তিরা, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ উৎসব পরিণত হয় এক মিলনমেলায়। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিলো উৎসবের আমেজ ও উদ্যমী তরুণদের স্বপ্ন দেখার দৃপ্ত প্রত্যয়।