সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১০ অপরাহ্ন

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা : এখনো শ্বাসরুদ্ধকর বাস্তবতায় বন্দি

Reporter Name / ১৯৮ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৫

মোহাম্মদ শাহাদাত আলম অন্তর : কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত দৈনিক আমাদের কুমিল্লা ও দৈনিক পূর্বাশা পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিলের প্রতিবাদে ও সারাদেশে বন্ধ হওয়া টেলিভিশন ও পত্রিকা খুলে দেয়ার দাবিতে সাংবাদিকদের প্রতিবাদ সমাবেশ।

আজ বৃহস্পতিবার কুমিল্লা প্রেসক্লাব মিলনায়তন “গণতন্ত্রের বিকাশ ও সুশাসনের জন্য সংবাদ মাধ্যমের শীর্ষক প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজনে কর সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ।

বক্তারা বলেন, এই দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ছিল না, এখনও নেই। যুগ বদলেছে, ক্ষমতার রঙ পাল্টেছে, প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে—তবু সাংবাদিকদের কণ্ঠ রোধের সংস্কৃতি একটুও বদলায়নি। বরং এখন তা আরও কৌশলী, আরও ছদ্মবেশী, এবং অনেক বেশি ভয়ংকর।

অতীতে সরাসরি সেন্সর বোর্ডের দাপট, টেলিফোনে নির্দেশ কিংবা সংবাদ অফিসে পুলিশি তল্লাশির মতো দৃশ্য দেখেছি আমরা। আর এখন সাংবাদিকদের হাত-পা বেঁধে রাখা হয় আইনের ধারা, মামলার ভয়, বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেওয়া, কিংবা একরকম আর্থিক দেউলিয়াত্বের মুখে ঠেলে দিয়ে। কখনো কখনো এসব অস্ত্রের পেছনে থাকে অদৃশ্য প্রশাসনিক চাপ, রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা ব্যক্তি আক্রোশ।

এর একটি সদ্য-ঘটিত দৃষ্টান্ত হলো—“দৈনিক আমাদের কুমিল্লা” ও “দৈনিক পুর্বাশা” পত্রিকা দুটি বন্ধ স্থানীয় পর্যায়ে গণমানুষের কথা বলার একটি নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম ছিল পত্রিকা দুটি। সরকারি দুর্নীতি, প্রশাসনিক ব্যর্থতা, এবং জনভোগান্তির মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতে তাদের অনুসন্ধানী রিপোর্ট দীর্ঘদিন ধরেই জনসমর্থন ও পাঠকের আস্থা অর্জন করেছিল। কিন্তু সত্য বলার এই সাহসিকতাই সম্ভবত কারও কাছে ‘অপরাধ’ হয়ে দাঁড়ায়। নেপথ্যের অজানা চাপে, হয়রানি ও অস্পষ্ট প্রক্রিয়ায় বন্ধ করে দেওয়া হয় এই পত্রিকাটি।

যে সমাজে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই, সে সমাজে গণতন্ত্র অলীক কল্পনা মাত্র। অথচ আমাদের সংবিধান সেই স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিয়েছে—তবু বাস্তবে তা প্রায় প্রতিদিনই লঙ্ঘিত হচ্ছে।

দেশের একাংশ এখন বিশ্বাস করে, ‘স্বাধীন’ গণমাধ্যম বলতে আসলে বুঝায় ক্ষমতাসীনদের চাটুকারিতা করা কিছু প্রতিষ্ঠানের সম্মিলন। আর যারা সাহস করে ভিন্ন কণ্ঠ তোলে, তাদের ভাগ্যে জোটে মামলা, গ্রেপ্তার, হুমকি, অথবা চিরতরে থেমে যাওয়ার ‘শাস্তি’।

আমরা চাই, “দৈনিক আমাদের কুমিল্লা” “দৈনিক পুর্বাশা”-এর মতো ঘটনা যেন নজির না হয়, বরং ব্যতিক্রম হয়। চাই, মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় রাষ্ট্র আন্তরিক হোক, রাজনৈতিক দলগুলো সহনশীল হোক, এবং জনসাধারণও সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়াক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা

সম্পাদকীয়

সম্পাদক ও প্রকাশক