মো: মফিদুল ইসলাম সরকার, রংপুর প্রতিনিধি : তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখার সময়
তারেক রহমান বলেন, প্রতিবেশী দেশ ভারত যদি পানির ন্যায্য হিস্যা না দেয় বা দিতে যদি দেরি করে কিংবা চুক্তি করতে অনীহা দেখায়। তাহলে দেশ ও জনগণের স্বার্থে
জনগণকে বাঁচাতে, কৃষককে বাঁচাতে, নদী বাঁচাতে, নাব্যতা রক্ষা করতে, সমস্যার সমাধান করতে আমাদেরকে আমাদের বাঁচার পথ খুঁজে নিতে হবে। এ জন্য দেশি ও আন্তর্জাতিকভাবে সফল সম্ভাব্য বিকল্পভাবে কাজে লাগাতে হবে।
তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলে পানির ন্যায্য হিসসা বঞ্চিত মানুষেরা আজকে সারা বিশ্বকে জানিয়ে দিতে চায় যে ভারতের সাথে বাংলাদেশের যে অভিন্ন ৫৪টি নদী এ নদীর পানির ন্যায্য হিসসা প্রাপ্তি এটা কোন করূণার বিষয় না।এটা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রাপ্য, বাংলাদেশের মানুষের প্রাপ। অথচ তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য পাওনা আদায়ের জন্য বাংলাদেশ তথা উত্তরাঞ্চলের মানুষকে পানির জন্য আন্দোলন করতে হচ্ছে।
দেশের নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিসসা আদায়ের উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে কালক্ষেপন না করে বাংলাদেশকে ১৯৯২ সালের ‘ওয়াটার কনভেনশন’ ও ৯৭ সালের জাতিসংঘ পানি প্রবাহ কনভেনশনে স্বাক্ষর করা জরুরী হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক উদ্যোগের পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলকে মরুকরণের হাত থেকে বাঁচাতে মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোন বিকল্প নেই।
ভারতের সমালোচনা করে বিএনপির,ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, পানি বন্টন নিয়ে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের সাথে অপ্রতিবেশীমূলক আচরণ করেই চলেছে। প্রায় ৫০ বছর হলো ফারাক্কার অভিশাপ থেকে বাংলাদেশ মুক্তি পায়নি এখন আবার তিস্তা বাংলাদেশের জন্য অভিশাপ হিসেবে দেখা দিয়েছে।আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে আমাদের প্রতিবেশী উজানের গজলডোবায় বাঁধ নির্মাণ করে তিস্তার স্বাভাবিক পানি প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের এই অপ্রতিবেশীমূলক আচরণের কারণে উত্তরাঞ্চলের লাখো কোটি জনগণ বন্যায়-খরায় দুর্বিষহ জীবন পার করছে। তিস্তার বুকে ধূ-ধূ বালুচর। একদিকে পানির অভাবে নষ্ট হচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকার ফসল আবার হঠাৎ করে উজান থেকে ছেড়ে দেয়া পানিতে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি,কৃষকের আবাদি ফসল বন্যায় ভাসিয়ে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, ৫ ই আগস্টে একজন খুনী-স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে।এই স্বৈরাচার একবার বলেছিল ভারতকে যা দিয়েছি তারা সারাজীবন মনে রাখবে। ভারত শুধু স্বৈরাচারকে মনে রেখেছে,বাংলাদেশের জনগণকে তারা মনে রাখেনি।সেজন্য পানির ন্যায্য হিসসা বঞ্চিত তিস্তাপাড়ের মানুষের মনে প্রশ্ন পলাতক স্বৈরাচারকে আশ্রয় দেয়া ছাড়া ভারত আর কিছু দেয়নি।