জেসমিন জুঁই : আজ ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর বাঙালি জাতি অর্জন করেছিল চূড়ান্ত বিজয়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে পৃথিবীর বুকে জন্ম নেয় একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র—বাংলাদেশ।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা পৃথক বাণী দিয়েছেন। তাঁরা মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। বাণীতে তাঁরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
দিবসটি উপলক্ষে ভোরে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ ছাড়া সারাদেশে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত, আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
সংক্ষিপ্ত ইতিহাস অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণার পর শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র সংগ্রাম ও অপরিসীম ত্যাগের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়, যা বাঙালি জাতির হাজার বছরের সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক বিজয়।
মহান বিজয় দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় স্বাধীনতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার। এই দিনে নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার পাশাপাশি জনগণের কল্যাণে রাষ্ট্র পরিচালনার দৃঢ় প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
আজ এই মহান দিনে জাতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করছে সকল শহীদকে, যাঁদের রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশ।