মোহাম্মদ শাহাদাত আলম অন্তর : কুমিল্লা থেকে বৃহত্তর নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুরগামী উপকূল বাস সার্ভিস মালিক-শ্রমিক দ্বন্ধের কারণে আজ সোমবার সকাল থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত বন্ধ থাকে।
এ সময় হাজার হাজার যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। উত্তেজিত শ্রমিকরা জাঙ্গালীয়া বাস টামটার্মিনালের সামনে বিভিন্ন শ্লোগান দেয়। খবর পেয়ে কুমিল্লা জেলা বাস ও মিনিবাস শ্রমিক ইউঃ রেজিঃ নং-২০২৬এর শ্রমিক নেতৃবৃন্দ এসে শ্রমিকদেরকে শান্ত করার চেষ্টা চালায়।
সরেজমিন বাস টার্মিনাল এলাকা ঘুরে একাধিক শ্রমিকের সাথে কথা বলে জানা যায়, কুমিল্লা থেকে নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরগামী দেশের অন্যতম বৃহৎ ট্রান্সপোর্ট উপকূল পরিবহনের প্রায় শতাধিক বাস প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী পরিবহন করে। বাসটির সাথে রয়েছে কমপক্ষে পাঁচ শতাাধিক শ্রমিকের রুটিরুজির অবলম্বন। শ্রমিকদের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে উপকূল পরিবহনের মালিকপক্ষের লোকজন নানাভাবে শ্রমিকদের শোষন করে আসছে। এ নিয়ে শ্রমিক মালিক সম্পর্ক বেশ কিছুদিন ধরে অবনতি হচ্ছিল। এরই মাঝে এই পরিবহনের বেশ ক’জন যাত্রী ও চেকার বিভিন্ন সময়ে বাসের চালক, কন্ডাক্টর, হেলপারের বিরুদ্ধে মালিক পক্ষের কাছে অভিযোগ করলে মালিকপক্ষ কোন যাচাই বাছাই না করেই একাধিক বাসের ষ্টাফদের চাকুরিচ্যূতসহ নগদ অর্থ জরিমানা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আজ সোমবার ভোর থেকে উপকূল সার্ভিসের পরিবহন স্কেটরে জড়িত শ্রমিকরা একজোট হয়ে বাস চালানো বন্ধ করে দেয়। এদিকে ভোর থেকে নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতাকারী অসংখ্য যাত্রীরা টার্মিনালে ভীড় করতে দেখা যায়। খবর পেয়ে সকাল ৮ টায় ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হয়ে একাধিকবার শ্রমিক নেতারা বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা চালায়। এ সময় শ্রমিকরা কারণে অকারণে ড্রাইভার ষ্টাফদের সাসপেন্ড করা যাবে না, রোডের চেকা ও যাত্রীদের কথায় যাচাই-বাছাই না করে শ্রমিকদের সাসপেন্ড করা যাবেনা।শ্রমিকদের মৃত্যু ফান্ডের টাকা কর্মহীন হলে বুঝিয়ে দেয়া সহ ১৮ দফা দাবী শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সামনে পেশ করেন। শ্রমিক নেতৃবৃন্দ এসময় বিষয়টি মালিক পক্ষের সাথে আলোচনা স্বাপেক্ষে দাবী পূরনের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা দুপুর ১২ টায় কর্মবিরতি তুলে নেয়। উপস্থিত শ্রমিক নেতৃবৃন্দরা হচ্ছেন, ২০২১৬ সভাপতি মোঃ আলী, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার কামাল হোসেনসহ অন্যান্য নেতারা।