স্টাফ রিপোর্টার : কুমিল্লায় ইসকন–এর সাবেক সেক্রেটারি পীতাম্বর গৌরাঙ্গ দাস (পিন্টু চন্দ্র বণিক)–কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিকৃত ছবি ছড়িয়ে মানহানির অভিযোগে দায়ের করা পর্নোগ্রাফি মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন না পেয়ে জেলহাজতে গেছেন আইনজীবী মানিক ভৌমিক।
সোমবার ২ মার্চ কুমিল্লার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফরহাদ রায়হান ভুঁইয়া, অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নং আমলি আদালত, শুনানি শেষে আসামির জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বাদী পীতাম্বর গৌরাঙ্গ দাস (পিন্টু চন্দ্র বণিক), পিতা-মৃত হরি বণিক, কুমিল্লা জেলার কোতোয়ালি থানার ছাতিপট্টি এলাকার মা তারা ভবনের বাসিন্দা। তিনি অভিযোগ করেন, সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনাকালে সাংগঠনিক মতবিরোধের জেরে আসামিপক্ষ তাকে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকি দেয় এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। পরে তার ছবি ‘সুপার এডিট’ করে অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে মানহানি করা হয়।
এ ঘটনায় তিনি ২০১২ সালের পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের ৮(১)(২)(৩)(৪)(৫) ধারায় মামলা দায়ের করেন। প্রথমে চারজনকে আসামি করা হলেও তদন্তে আরও একজনের সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে আসে।
মামলাটি প্রথমে পিবিআইয়ের মাধ্যমে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করা হয়। পরে বাদীর নারাজির প্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি সিআইডির কাছে পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন। সিআইডি দীর্ঘ তদন্ত শেষে পাঁচজনকে আসামি করে প্রতিবেদন দাখিল করে, যা বাদীপক্ষের পক্ষে আসে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী সুবীর নন্দী বাবু জানান, প্রতিবেদন দাখিলের পর ধার্য তারিখে শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরবর্তীতে আইনজীবী মানিক ভৌমিক আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বাদীপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
বাদী পিন্টু চন্দ্র বণিক বলেন, “আমি আদালতের আদেশে সন্তুষ্ট। বাকি আসামিদেরও গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশা করছি। মহামান্য আদালত আমাকে ন্যায়বিচার দেবেন—এটাই আমার প্রত্যাশা।
মামলার অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে বলে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে।