মোঃ ইয়াছিন মিয়া, কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লার মুরাদনগরে নারীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন ও অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় সারাদেশে। আলোচিত এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূল পরিকল্পনাকারী ও উস্কানিদাতা মোঃ শাহ পরান (২৮) র্যাব-১১ গ্রেফতার করেছে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, ২৬ জুন রাতে মুরাদনগর উপজেলার বাহেরচর গ্রামে একটি ভয়াবহ ও পূর্বপরিকল্পিত নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। ঘটনার দিন রাত ১১ টা ৩০ মিনিটে শহিদের বড় ছেলে ফজর আলী ভিকটিমের শয়নকক্ষে প্রবেশ করে। এর পর ১১ টা ৫০ মিনিটে একই গ্রামের অনিক, আরিফ, সুমন, রমজান ও আরও অজ্ঞাত ৮-১০ জন ব্যক্তি ভিকটিমের ঘরে জোরপূর্বক প্রবেশ করে শারীরিক নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির পাশাপাশি অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে এবং পরে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।
এ ঘটনায় ভিকটিম বাদী হয়ে মুরাদনগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-২০, তারিখ-২৯/০৬/২০২৫)।
ঘটনার পর থেকেই র্যাব গোয়েন্দা নজরদারী ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় মূল হোতাদের শনাক্তে তৎপরতা চালিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ৩ জুলাই বৃহস্পতিবার কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কাবিলা বাজার এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শাহ পরানকে গ্রেফতার করে র্যাব-১১, সিপিসি-২। গ্রেফতারকালে তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহ পরান র্যাবকে জানায়, ঘটনার দুই মাস আগে পারিবারিক শত্রুতার জেরে বড় ভাই ফজর আলীর সঙ্গে তার ঝগড়া হয় এবং এক শালিস বৈঠকে জনসম্মুখে তাকে থাপ্পড় মারেন তার ভাই। এর প্রতিশোধ নিতেই সে এই ভয়াবহ ঘটনাটি পরিকল্পনা করে।
এ ছাড়া ঘটনার রাতে ভিকটিমের মা-বাবা স্থানীয় একটি মেলায় গেলে, সেই সুযোগে ফজর আলী ভিকটিমের কক্ষে প্রবেশ করে। পরে শাহ পরান তার দলবল নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়, ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেয়।
র্যাব জানায়, শাহ পরান দীর্ঘদিন ধরে ভিকটিমকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল এবং তার নেতৃত্বেই এই বর্বর ঘটনা সংগঠিত হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে তাকে মুরাদনগর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। র্যাব জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।