ইসমাইল চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : গত ১৬ নভেম্বর থেকে সারাদেশের ন্যায় খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষকদের “নো প্রমোশন, নো ওয়ার্ক” কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে। ৩২তম থেকে ৩৭তম ব্যাচের পদোন্নতিযোগ্য প্রভাষকরা প্রায় ৭ থেকে ১২ বছর ধরে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পাচ্ছেন না। ফলে তারা এই কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের প্রতি তাদের দাবী জানাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন প্রভাষকরা।
মঙ্গলবার ১৮ নভেম্বর সকালে খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজ পরিদর্শনে গিয়ে এবং প্রভাষকদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার প্রভাষক পরিষদের একজন নেতা বলেন, “আমরা অনতিবিলম্বে পদোন্নতি চাই। সরকারের ইচ্ছে থাকলেই পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব। পদোন্নতিযোগ্যদের তালিকায় থাকা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়ার জন্য কোনো আর্থিক প্রভাব নেই। শুধু প্রয়োজন যথাযথ সদিচ্ছা ও উদ্যোগ।”
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৩২তম ও ৩৩তম বিসিএস ব্যাচের প্রায় চার শতাধিক প্রভাষক চাকরিতে যোগদানের ১২ বছর পরেও প্রথম পদোন্নতি পাননি। এছাড়া ৩৪তম ব্যাচ ১০ বছর, ৩৫তম ব্যাচ ৯ বছর, ৩৬তম ব্যাচ ৮ বছর, এবং ৩৭তম ব্যাচ ৭ বছরে প্রথম পদোন্নতি পেয়েছেন। অন্যদিকে একই ব্যাচের অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা ইতিমধ্যেই পদোন্নতি পেয়ে দ্বিতীয় পদে রয়েছেন।
প্রভাষকরা অভিযোগ করেছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০০০ বিধি বহির্ভূত ৫৭টি আদেশ বাতিল করতে বিলম্ব করছে। ২০২৫ সালের ৪ জুন ডিপিসি (Departmental Promotion Committee) সভা অনুষ্ঠিত হলেও পদোন্নতির আদেশ এখনও কার্যকর হয়নি। প্রভাষকরা উল্লেখ করেছেন, আদালতের কোনো স্থগিতাদেশ থাকায় পদোন্নতি বন্ধ রাখা হয়নি, এবং বর্তমানে ডিপিসি বসাতে কোনো বাধা নেই।
প্রভাষকরা বলেন, “অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা ইতিমধ্যেই পদোন্নতি পেয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন, ব্যাংকাররা ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরাও উপযুক্ত গ্রেডে পৌঁছেছেন। অথচ শিক্ষা ক্যাডারের প্রায় আড়াই হাজার কর্মকর্তা যোগ্যতা অর্জন করেও পদোন্নতি পাচ্ছেন না। নিয়মিত পদোন্নতি এখন শিক্ষা ক্যাডারে ‘সোনার হরিণে’ পরিণত হয়েছে।”
প্রভাষকদের দাবি, সরকারের যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে দ্রুত ডিপিসি সম্পন্ন হয়ে পদোন্নতির আদেশ জারি হবে।