মো আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : “শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড” হাওরঅঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে নিজের রেকর্ডীয় ভূমি দান করলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী, সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব খসরুল আলম। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যে কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সমতূল্য। আর স্কুল হলো এমন একটি জায়গা যেখান থেকে ছেলে, মেয়েরা প্রতিনিয়ত জ্ঞানার্জন করে।
শিক্ষা সকলের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা সবারই জানা কিন্তু বর্তমানে দেশের এমনও অনেক এলাকা রয়েছে যেখানে শিক্ষা অভাবে শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো শিক্ষা গ্রহণ ও খেলাধুলা করতে পারছে না।
উল্লেখ্য, তাহিরপুর উপজেলার হাওর বেষ্টিত শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন এলাকায় জনতা উচ্চ বিদ্যালয় নামে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৯সালে।
জানা যায়, শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের (সাবেক) চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, তিনি চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে ১৯৮৯ সালে ৮৯ ফুট লম্বা এবং সাইড ওয়াল একটি টিনশেড স্কুল প্রতিষ্ঠিত করেন।
কিন্তু সেই থেকে স্কুল শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও শরীরচর্চা করার জন্য উক্ত বিদ্যালয়ে বারোমাসি কোন মাঠ ছিলো না।
বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার কথা চিন্তা করে স্কুলটির প্রতি সুদৃষ্টি পরে শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের (সাবেক) চেয়ারম্যান বড়ছড়া কয়লা ও চুনাপাথর আমদানি কারক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মো.খসরুল আলমের।
তার এমন উদারতায় বোঝা যায় পৃথিবীতে যে ভালো মানুষের অভাব নেই, তারই প্রমাণ মিলেছে সম্প্রতি আলহাজ্ব মো.খসরুল আলমের মধ্যে। তিনি স্বদিচ্ছায় তাঁর মূল্যবান ৪৪ শতাংশ জমি জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ে দান করেছেন।
যাতে এলাকার শিক্ষার্থীরা উন্নত শিক্ষা ও খেলাধুলার মাধ্যমে মনমানসিকতা লাভ করতে পারে। এবিষয়ে জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোদাচ্ছির আলম সুবল জানান, জমির অভাবে জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যালয়ে বারমাসি খেলাধুলার মাঠ নির্মাণ কাজ হচ্ছিল না।
এ সময়ে বিদ্যালয়ের জন্য নিজের মূল্যবান ৪৪ শতাংশ জমি দান করলেন, তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য, শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের (সাবেক) চেয়ারম্যান ও বড়ছড়া কয়লা আমদানি কারক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মো.খসরুল আলম। আমরা এতে অনেক আনন্দিত। এমন নজির দেশে এখন বিরল।
এলাকার বিশিষ্ট কয়লা ব্যবসায়ী সীতেশ পাল বলেন, জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খেলার জন্য বারোমাসি কোন মাঠ নাই, শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে মানবিক ও দান বীর (সাবেক) শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং বড়ছড়া কয়লা আমদানি কারক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মো. খসরুল আলম, স্কুলের জন্য নিজের ৪৪ শতাংশ জমি দিয়েছেন। আমরা অনেক আনন্দিত।
এ প্রসঙ্গে জমিদাতা আলহাজ্ব মো.খসরুল বলেন, আমার এলাকায় শিক্ষার্থীরা জায়গার অভাবে খেলাধুলা করতে পারবে না এটা আমার জন্য খুবই কষ্টদায়ক। ছাত্র,ছাত্রীরা খেলাধুলাতে মনমানসিকতা ভালো থাকবে এবং লেখাপড়াতে মনযোগী থাকবে এটাই আমার কামনা। আমার দায়িত্বের জায়গা থেকেই জনতা উচ্চ বিদ্যালয় স্কুল শিক্ষার্থীদের বারমাসি খেলাধুলা করার জন্য আমি আমার নিজের মূল্যমান ৪৪ শতাংশ জমি দান করেছি।