ইনসাফ ডেস্ক : মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞ চিত্তে তাঁর অবিস্মরণীয় স্মৃতি ও ঐতিহাসিক অবদানকে স্মরণ করেছে জনতা পার্টি বাংলাদেশের নির্বাহী চেয়ারম্যান গোলাম সারোয়ার মিলন ও মহাসচিব শওকত মাহমুদ।
আজ এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, মাওলানা ভাসানী ছিলেন এ উপমহাদেশের শোষিত-বঞ্চিত ও প্রান্তিক মানুষের অবিসংবাদিত অভিভাবক, কৃষক-শ্রমিক ও নিপীড়িত জনগণের অনন্য কণ্ঠস্বর এবং সাম্রাজ্যবাদ, স্বৈরতন্ত্র ও বৈষম্যমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে এক আপসহীন ও দুর্বার সংগ্রামী পুরুষ। পাকিস্তান আমলে বাঙালির স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধিকার আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতার পূর্বাপর প্রতিটি উত্তাল পর্বে তিনি ছিলেন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন, নির্ভীক ও আপসহীন নেতৃত্বের উজ্জ্বল প্রতীক।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আজ যে নৈতিক অবক্ষয়, আদর্শহীনতা, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির ভয়াবহ বিস্তার দেখা যাচ্ছে, সেই প্রেক্ষাপটে মজলুম জননেতা ভাসানীর ত্যাগসঞ্জাত জীবনদর্শন, নীতিনিষ্ঠ রাজনৈতিক চেতনা ও গণমুখী অবস্থান আরও অধিক প্রাসঙ্গিক ও পথপ্রদর্শক হয়ে উঠেছে। তিনি ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সকল নিপীড়িত ও অবহেলিত মানুষের মুক্তিকে তাঁর রাজনৈতিক সংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দুতে স্থাপন করেছিলেন। সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, সম্পদ ও সুযোগের বৈষম্য দূরীকরণ, কৃষক-শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার সুনিশ্চিত করা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপোসহীন, অদম্য ও অবিচল।
নেতৃদ্বয় আরও বলেন, মাওলানা ভাসানীর অবিস্রান্ত সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, সংযম ও নীতিনিষ্ঠ রাজনৈতিক জীবন নতুন প্রজন্মের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত এবং প্রেরণার উৎস। তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করেই প্রকৃত গণতন্ত্র, জবাবদিহিমূলক সুশাসন, আইনের শাসন এবং মানবিক মর্যাদাভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা সুপ্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব। আমরা দেশপ্রেমিক, গণতন্ত্রনিষ্ঠ সকল শক্তির প্রতি আহ্বান জানাই—মজলুম জননেতা ভাসানীর আদর্শ, চেতনা ও সংগ্রামের উত্তরাধিকার ধারণ করে শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন ও ইনসাফের বাংলাদেশ নির্মাণে ঐক্যবদ্ধ হওয়া এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি।