নিজস্ব প্রতিনিধি, মাদারগঞ্জ জামালপুর : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর–৩ (মেলান্দহ–মাদারগঞ্জ) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী—শিবলুল বারী রাজু ও সাদিকুর রহমান সিদ্দিকী শুভ’র বিরুদ্ধে ভোটারদের প্রভাবিত করতে টাকা ও পেশিশক্তি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় ভোটাররা।
অভিযোগে জানা গেছে, কাচ-পিরিচ প্রতীকের প্রার্থী সাদিকুর রহমান সিদ্দিকী শুভ নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাংশের কিছু নেতা-কর্মীকে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে নিজের পক্ষে টানছেন। একই সঙ্গে ভোট কেনার উদ্দেশ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নগদ অর্থ বিতরণের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে গত ২৪ জানুয়ারি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী সাদিকুর রহমান সিদ্দিকী শুভকে বহিষ্কার করেন।
এছাড়াও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে গত ২২ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ৩, ৯ ও ১৮ লঙ্ঘনের অভিযোগে এবং ২ ফেব্রুয়ারি বিধি ৯ (চ) অনুযায়ী মিছিলে ড্রোন ক্যামেরা ব্যবহার করায় নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত সিভিল জজ আরিফ হোসাইন তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন।
অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী শিবলুল বারী রাজু দীর্ঘদিন ধরে মাদারগঞ্জ আমানত উদ্ধার সহায়ক কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার ২৮টি সমবায় সমিতির প্রায় ৩০ হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে আন্দোলনের সময় মাথাপিছু ৩০ থেকে ৫০ টাকা করে আদায় করে প্রায় ১০ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়। ওই অর্থ দিয়েই তিনি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
হাজরাবাড়ী বাজার এলাকার বাসিন্দা সুলতান জানান, কাচ-পিরিচ প্রতীকের প্রার্থী সাদিকুর রহমান সিদ্দিকী শুভ তার মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যেককে ৫০০ টাকা করে প্রদান করেন। পাশাপাশি চলাচলের জন্য অটোরিকশার ব্যবস্থাও করা হয়।
এ দিকে বালিজুড়ী এলাকার বাসিন্দা সবুজ অভিযোগ করে বলেন, “স্বতন্ত্র প্রার্থী শিবলুল বারী রাজু আমাদের কাছ থেকে টাকা তুলে আন্দোলন করেছেন। সেই টাকা কোথায় খরচ হয়েছে তার কোনো হিসাব আমরা জানি না। এখন তিনি নিজেই এমপি প্রার্থী হয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছেন।”
সম্প্রতি মাদারগঞ্জ সমবায় সমিতির গ্রাহকদের অর্থ উদ্ধার কমিটির আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মমতাজুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, আন্দোলনের সময় নির্ধারিত কর্মসূচি পরিবর্তন করে ডিসি অফিসের সামনে কর্মসূচি দেওয়া হয়, যেখানে অর্থনৈতিক লেনদেনসহ নানা অসঙ্গতি ছিল। সদস্য কার্ড তৈরিতে যেখানে খরচ ছিল ৫৫ পয়সা, সেখানে ১০ টাকা করে বিক্রি করা হয়েছে। ওই অর্থের কোনো হিসাব তারা পাননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ দিকে বিএনপির একটি নির্বাচনী সভায় মাদারগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মুখলেসুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, একটি সংগঠন প্রায় ৩৫ হাজার গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করে ভোটারদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চাইছে। তিনি এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
বালিজুড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম মুসা তার বক্তব্যে বলেন, একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী আন্দোলনের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ৩০–৫০ টাকা করে চাঁদা তুলে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করেছেন। তিনি ওই প্রার্থীকে বয়কট করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিরুদ্ধে মিছিলের অংশগ্রহণকারীদের ৫০০ টাকা করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি টাকার বিনিময়ে ভোট চাওয়া প্রার্থীদের প্রত্যাখ্যান করে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
স্বতন্ত্র প্রার্থী শিবলুল বারী রাজুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদিকুর রহমান সিদ্দিকী শুভ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি বা আমার কোনো সমর্থক কাউকে টাকা দেয় না। আমরা কাউকে পান পর্যন্ত খাওয়াই না। এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অপপ্রচার।”
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী বলেন, “একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জিন্নাতুল আরা জানান, এখনো তার কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।