শিরোনাম :
সাংবাদিক সাখাওয়াত হাফিজের ওপর হামলার প্রতিবাদে কুমিল্লায় মানববন্ধন টেকনাফে রাসেল নামক এক যুবকের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার করে মুক্তির দাবিতে এলাকাবাসী  হাওরে কৃষকদের সুরক্ষায় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে সরকারের সহায়তা চাইলেন এমপি কামরুজ্জামান কামরুল পঞ্চগড়ে এআই দিয়ে কলেজ শিক্ষার্থীর অশ্লীল ছবি বিকৃত করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় মানববন্ধন   বিষ ফসল দিয়ে নষ্ট করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা  পঞ্চগড় হাটবাজারে গম ৪০ কেজি স্থলে ৪৬ কেজিতে মণে বিক্রি ইউপি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন, উঠছে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগ পূর্ব ও পশ্চিম বিধানসভার বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে অমিত শাহ’র রোড শো  তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সায়ন্তিকা ব্যানার্জির সমর্থনে প্রচারে অভিনেতা দেব বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে ২৪ হাজার ইউএস ডলারসহ ভারতীয় নাগরিক আটক
বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন

লক্ষীচাপ ইউনিয়নে ভিজিএফ চাল বিতরণে চরম অনিয়ম : কয়েক শত উপকারভোগী বঞ্চিত

Reporter Name / ১৬১ Time View
Update : শনিবার, ২২ মার্চ, ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক : নীলফামারীর ১৫ নং লক্ষীচাপ ইউনিয়নে ভিজিএফ চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রতি কার্ডধারীর জন্য বরাদ্দ ১০ কেজি চালের স্থলে দেয়া হয়েছে ৮-৯ কেজি।

এছাড়া ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ৬৫ জনসহ অন্যান্য ৮টি ওয়ার্ডেও শত শত উপকারভোগী চাল পাননি। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে সাধারণ মানুষের মাঝে। অভিযোগ রয়েছে, চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান ভোক্তাদের ২০০ টাকা করে দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্রদের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণের কথা থাকলেও বাস্তবে দেয়া হয়েছে ৮-৯ কেজি। স্থানীয়রা বলছেন, বাকি চাল কোথায় গেল, তার জবাব মিলছে না।

৮ নম্বর ওয়ার্ডের এক বাসিন্দা বলেন, “আমার কার্ড থাকলেও ১০ কেজি চাল পাইনি।

৯ নম্বর ওয়ার্ডের একজন বলেন, “আমি দুইবার গিয়েছি, বলছে চাল নেই। অথচ পাশের বাড়ির লোকজন চাল পেয়েছে। তাহলে আমার চাল গেল কোথায়?”

প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডেই চাল না পাওয়ার অভিযোগ শুধু ৮ নম্বর ওয়ার্ডেই ৬৫ জন উপকারভোগী এখনও চাল পাননি। বাকী ৮টি ওয়ার্ডেও একই অবস্থা। ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক শত উপকারভোগী চাল পাননি। আবার যারা পেয়েছেন তারাও পরিমানে কম পেয়েছেন।

এক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, “আমার পরিবারের জন্য চাল বরাদ্দ আছে, অথচ পাইনি। চেয়ারম্যানকে বললে তিনি ২০০ টাকা নিতে বলেন, চাল নয়। আমরা চাল চাই, টাকা নয়।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অনিয়মের মূল হোতা চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান ও তার ড্রাইভার সাজু ইসলাম। তারা বরাদ্দকৃত চাল কম দিয়ে বা লুকিয়ে রেখে তা বিক্রি করে দিচ্ছেন বলে অনেকের ধারনা।

একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তি বলেন, “প্রতি বস্তায় ৩০ কেজি থাকার কথা কিন্তু কিন্তু বিতরনের সময় চাল ৩ জনকে মিলে একটি বস্তা দিলেও বস্তা খুলে চাল বের করে নিচ্ছেন। এদিকে চালের সংকট দেখে বোঝাই যাচ্ছে যে বরাদ্দের চাল অন্য কোথাও চলে গেছে।”

চেয়ারম্যান আমিনুর রহমানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি। কয়েকজনের চাল বাকি আছে, পরে দেয়া হবে।”

তবে স্থানীয়রা বলছেন, এই “পরে দেয়া হবে” কথা আগেও শুনেছেন, কিন্তু বাস্তবে কেউ চাল পাননি।

স্থানীয়রা দ্রুত সরকারি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এবং এই অনিয়মের জন্য দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন।

স্থানীয় একজন সমাজসেবক বলেন, “এই অনিয়ম সহ্য করা যায় না। দরিদ্র মানুষদের হক মেরে দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া।”

সরকারের বরাদ্দকৃত ত্রাণ আত্মসাৎ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনছে। প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্নীতি বন্ধ হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা

সম্পাদকীয়

সম্পাদক ও প্রকাশক